| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এই শান্তি যদি আরও আগে আসত !

গ্রামে ফিরে বাড়ি নয়, ধ্বংসস্তূপ পেলেন তারা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৯, ২০২৬ ইং | ২১:২৫:২২:অপরাহ্ন  |  ৬২৪ বার পঠিত
গ্রামে ফিরে বাড়ি নয়, ধ্বংসস্তূপ পেলেন তারা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিজের বাড়ি নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন আবেদ হাশেম। কিন্তু ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় দক্ষিণ লেবাননের তার গ্রাম ক্লাইলেহ প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবার তিনি যেন দিশেহারা।

যেখানে একসময় তার বাড়ি ছিল, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ। ফুলে ভরা বাগানের জায়গাজুড়ে ধুলোর স্তূপ। ভেঙে পড়া বসার ঘরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শিশুদের খেলনা ও আসবাবপত্র।

তিন সন্তানের জনক ৪৬ বছর বয়সী আবেদ হাশেম চারপাশের বিধ্বস্ত বাড়িগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “হায় আল্লাহ... এখানে একটা ভবন ছিল... এখানে... এখানেও একটা বাড়ি ছিল।”

পুরো গ্রামে এখনও দাঁড়িয়ে থাকা অল্প কয়েকটি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় মসজিদের মিনার।

গত ২ মার্চ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েল বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখলে নেয়।

এ পর্যন্ত এই সংঘাতে ৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ। ইসরায়েলের জারি করা বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশে দক্ষিণ লেবাননের অনেক গ্রাম পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামো লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।

তবে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমে যাওয়ার পর আবেদ হাশেমের মতো বাস্তুচ্যুত মানুষরা যখন নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন, তখন তারা দেখছেন তাদের পুরো জনপদ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

হাশেম বলেন, “পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার বাড়ি নেই, গ্রাম নেই। এখন আমরা কোথায় যাব? কিছুই অবশিষ্ট নেই। সারাজীবনের সব পরিশ্রম শেষ হয়ে গেছে।”

তার পাশের বাড়ির প্রতিবেশী, যাকে তিনি নিজের ভাইয়ের মতো মনে করতেন এবং প্রতিদিন সকালে যার সঙ্গে এক কাপ চা খেতেন, তিনি ও তার ছেলে দুজনই নিহত হয়েছেন।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে হাশেম বলেন, “রাজনৈতিক দল, অস্ত্র কিংবা যুদ্ধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। মানুষটা শুধু পরিবারের জন্য উপার্জন করার চেষ্টা করছিল। অথচ সে আর তার ছেলে বিনা কারণেই প্রাণ হারিয়েছে।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত অন্তর্বর্তী চুক্তির ফলে লেবাননে সংঘাত কিছুটা কমে আসে। এতে হাশেমের মতো বাস্তুচ্যুত মানুষরা বাড়ি ফেরার সুযোগ পান। তবে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার বিকেলে আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

হাশেমের আক্ষেপ, এই শান্তি যদি আরও আগে আসত।তার ভাষায়, “যে সমঝোতা তারা করেছে, সেটা শুরুতেই করা উচিত ছিল। মানুষগুলো ধ্বংস হওয়ার পর নয়।”

 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪