| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, প্রতারনার মামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১২, ২০২৬ ইং | ০২:০৩:২৫:পূর্বাহ্ন  |  ২৯৩৬ বার পঠিত
বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, প্রতারনার মামলা

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জব্দ করা ভারতীয় পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে বন্দর কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি সাতজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমির মাহামুদ আরেফিন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ গত ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি চালান আমদানি করে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে চালানটি গ্রহণ করে বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। পরে চালানটি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়।

আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ে। ১০৮টি কার্টনে ঘোষণাবহির্ভূত প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায়। এসব পণ্য মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ১৪ মার্চ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যগুলো জব্দ করে ৩৭ নম্বর শেডে সিলগালা করে রাখে।

গত ২ জুন কাস্টমস কর্মকর্তারা জব্দ পণ্য পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, দামী ভারতীয় পণ্যের পরিবর্তে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাস্টমসের দাবি, পুরো ঘটনায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে।

অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান দাবি করেন, জব্দ হওয়া চালানটি খালাসের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। রাজু নামের এক ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ওই ব্যক্তির পরিচয় কাস্টমসকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, আমদানি করা ভারতীয় পণ্যের পরিবর্তে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্পগ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামযুক্ত কার্টনে সংরক্ষিত ছিল। এছাড়া দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পণ্যগুলো দেশের অভ্যন্তর থেকেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, পণ্য গায়েবের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪