রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামে স্থিতিশীল থাকলেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, মাছ ও ডিমের দাম প্রায় আগের মতোই রয়েছে। তবে কিছু সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি কোনো নতুন কর বা শুল্ক আরোপ না থাকায় বাজারে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং ঈদের পর থেকে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমতির দিকেই রয়েছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি এবং ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও ৮০০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারভেদে সামান্য ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে দাম আগের মতোই রয়েছে। পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি টেংরা ও বাইম মাছের দাম তুলনামূলক বেশি থাকছে।
চিংড়ির দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইছে। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে। বাজারে লেবু ১০ থেকে ২০ টাকা হালি, শসা ৫০ টাকা কেজি এবং কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালীন ও মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। পটল, কাঁকরোল, বরবটি, লাউ ও ধুন্দুলসহ বিভিন্ন সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বর্তমানে করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
আলু ২৫ টাকা কেজি এবং ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম তুলনামূলক বেশি, কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
বিক্রেতাদের মতে, ঈদের পর বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য কিছুটা স্থিতিশীল থাকায় বড় ধরনের দামের ওঠানামা হয়নি।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও কিছু নিত্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই সীমিত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম