| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কেন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী রাষ্ট্রপতি দরকার?

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৬, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৫:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৫১৬ বার পঠিত
কেন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী রাষ্ট্রপতি দরকার?

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি পদটি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিত্ব, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় ধরনের জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। এরপর দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তবে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের পর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

এরপর বিএনপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। দলটির পক্ষ থেকে সে সময় একজন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে ২০০৬-০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সংবিধান অনুযায়ী তৎকালীন সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে নির্বাচন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংকট আরও গভীর হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। এ সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

এর বিপরীতে ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার উদাহরণও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসে। সে সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তিনি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগে দৃঢ় ভূমিকা রাখেন বলে তার সমর্থকেরা মনে করেন। ওই সময় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় তার ভূমিকার বিষয়টিও আলোচিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দৃঢ়, সংকট মোকাবিলায় সক্ষম এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালনার মতো স্পর্শকাতর সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দলটির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নয়, বরং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন দৃঢ় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারেন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪