| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসলামপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল চিত্র: ১২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৬, ২০২৬ ইং | ১৫:৫০:১৮:অপরাহ্ন  |  ৫৮৮ বার পঠিত
ইসলামপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল চিত্র: ১২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নানা সংকটে জর্জরিত। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টি প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি ৫৬ জন সহকারী শিক্ষক এবং চারটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) পদও খালি। শিক্ষক সংকট, তদারকির অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। গত ২৮ জুলাই দুপুরে গাইবান্ধা ইউনিয়নের মালপাড়া শহীদ খবির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও উপস্থিতি খাতায় ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও শ্রেণিকক্ষে পাওয়া যায় মাত্র চারজনকে। শিক্ষকরা জানান, টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায় এবং অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন।

একই দিন মরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কয়েকজন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অন্যদিকে নয়া মালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর তিনটার দিকে গিয়ে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নয়া মালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন। বিদ্যালয়টিতে মোট ছয়জন শিক্ষক কর্মরত, যার মধ্যে তার স্ত্রী ও ভাতিজার স্ত্রীও সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা স্কুল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জামালপুর শহরে বসবাস করেন এবং অধিকাংশ সময় সেখানেই অবস্থান করেন।

৩০ জুলাই ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের পচাবহলা আলাই পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও খাতায় ১২ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে ছিল মাত্র ছয়জন। শিক্ষকরা জানান, টিফিনের পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে থাকতে চায় না। ওইদিন পাশের আলাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকলেও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাসিক সভায় অংশ নিতে উপজেলা সদরে গিয়েছিলেন। নয়া মালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানো হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুরে মোট ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সরাসরি সরকারি এবং ৯৮টি নিবন্ধিত বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উপজেলায় অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি হলেও কর্মরত রয়েছেন ৮৮০ জন। অর্থাৎ ৫৬টি পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ১৭৭টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৮ জন। ফলে বাকি ১২৮টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এর ফলে এসব বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হয়নি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন বলেন, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত সব বিদ্যালয় পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলায় ছয়জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন। অফিসের কাজ শেষ করে তিনজন কর্মকর্তার পক্ষে ১৭৭টি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিশেষ করে যমুনা চরাঞ্চল এবং রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনিয়ম ও অনুপস্থিতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক শিক্ষক দূরবর্তী শহরে বসবাস করে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ইসলামপুরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়বে।


রিপোর্টার্স২৪/নাঈম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪