অনলাইন ডেস্ক: ফিফার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করে ভুল স্বীকার করেছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব প্রত্যাহার করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে বিতর্কের মধ্যেও ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় সভাপতি পদে বহাল থাকছেন তিনি।
মরক্কোর রাবাতে ফিফার আফ্রিকান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর সংস্থার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক বিবৃতিতে জানান, ২১১টি সদস্যদেশের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
বিতর্কিত পরিকল্পনাটি ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ৪ কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে ফিফার সহসভাপতি, কাউন্সিল এবং সদস্যদেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পুরো প্রক্রিয়া যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তার জন্য আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন।
ফিফা স্বীকার করেছে, প্রস্তাবটি নিয়ে কাউন্সিল ও সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি এবং বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, সংবাদমাধ্যমে পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলোর দায়ও তারা স্বীকার করছে।
তবে সমালোচনা থামেনি। পর্তুগালের কিংবদন্তি লুইস ফিগো ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, তিনি সভাপতির পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতার কথা জানান।
এদিকে ফিফা স্পষ্ট করেছে, মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সংস্থার দাবি, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজিত ওই বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু যথাসময়ে নির্ধারণ করা হবে।
সব বিতর্কের মধ্যেও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী হতে ২১১ সদস্যদেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন হবে। যদিও উয়েফা ইতোমধ্যে তার নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে এবং কয়েকটি সদস্যদেশ পুনর্নির্বাচনে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
ফিফার আশা, ভুল স্বীকার ও নতুন সিদ্ধান্তগুলো সংস্থার সুশাসন জোরদার করবে এবং সদস্যদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। তবে এই ক্ষমা প্রার্থনা দীর্ঘদিনের বিতর্কের ইতি টানতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ