| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পশ্চিমবঙ্গে থেমে নেই নির্বাচন পরবর্তী সহিংসা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৭, ২০২৬ ইং | ১৭:১৭:৫৪:অপরাহ্ন  |  ২২৬৩ বার পঠিত
পশ্চিমবঙ্গে থেমে নেই নির্বাচন পরবর্তী সহিংসা

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বসিরহাটে গুলিচালনা থেকে শুরু করে পানিহাটিতে বোমা হামলা, একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মাঝেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির মুখে পড়েছে।

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত হামলা। হামলাকারীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড গুলি চালায় এবং ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার জেলার অন্যান্য প্রান্তে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বসিরহাটের গোত্র এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোর সময় রোহিত রায় ওরফে চিন্টু (৩৮) নামে এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বর্তমানে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। রোহিত রায়ের অভিযোগ, জহিনুর, সন্তু ও ভোলার মতো ৮ থেকে ১০ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে অন্ধকারের মধ্যে নির্বিচারে গুলি চালায়। বশিরহাট জেলা বিজেপি সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।

উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডে বিজেপি কর্মীদের ওপর মোটরবাইকে এসে বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিজেপি কর্মীরা যখন বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন চারটি বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা পর পর বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। এই হামলায় অন্তত তিনজন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তাঁদের আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর খড়দহ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় রুট মার্চ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

রাজ্য পুলিশের জিডিপি সিদ্ধ নাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি রুখতে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০০০-এর বেশি মানুষকে প্রতিরোধমূলক ধারায় আটক করা হয়েছে। আসানসোল, কোচবিহার ও বারুইপুরের মতো এলাকাগুলোতেও অস্থিরতা দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সহিংসতার এই আবহে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ এখনও বন্ধ হয়নি। তবে বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে একটি অন্য আশঙ্কাও কাজ করছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূল থেকে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেয়া কিছু ‘নতুন লোক’ দলীয় পতাকা ব্যবহার করে অশান্তি ছড়াতে পারে। তাই দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই অব্যাহত সহিংসতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তরণকে এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন শুধু শান্তির প্রত্যাশা করছেন। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪