চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ভয়াবহ ভূমিধস রোধে ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পাহাড় কাটার কারণে আসন্ন বর্ষায় দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার পাহাড় ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা এবং ভূমিধস ঝুঁকি একীভূতকরণ’ শীর্ষক নীতিপত্র প্রচার অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে ১০ বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়।
মূল প্রবন্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ বলেন, পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের মতো মানবসৃষ্ট কারণেই ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, জুন ও জুলাই মাসে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু এবং পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীল রাখতে প্রাকৃতিক পদ্ধতির ব্যবহার জরুরি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রাম শহর ভূমিধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ে বসতি স্থাপন নিরুৎসাহিত করা হলেও সেখানে বসবাসকারীদের জীবন-জীবিকার বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়।
প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বন উজাড়, পাহাড়ঘেঁষা ইটভাটা ও অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পাহাড়ের স্থায়িত্ব নষ্ট করছে। পাশাপাশি আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
প্রস্তাবিত রোডম্যাপে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, উচ্চ-রেজোলিউশনের ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতির পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি