| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে আমেরিকা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৭, ২০২৬ ইং | ১৭:২৩:৫৭:অপরাহ্ন  |  ১৮৫৩ বার পঠিত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে আমেরিকা

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : প্রথম সারির মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের একটি চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের সাথে মাসব্যাপী চলা যুদ্ধে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছিল, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা শতাধিক স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি সামরিক ঘাঁটির অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এটি আমেরিকার মতো উন্নত প্রযুক্তির দেশের জন্য এক বিশাল ধাক্কা এবং ইঙ্গিত দেয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের দিক থেকে আসা এমন বিধ্বংসী পাল্টা হামলার কথা কল্পনাও করতে পারেনি।

ইরানের হামলায় হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, রাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো ঘাঁটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মিডল ইস্টের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থা 'ভ্যান্টর' ও 'প্ল্যানেট'-কে ছবি প্রকাশে বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আগে সামনে আসেনি। শেষ পর্যন্ত ইরানের সরবরাহ করা ১২৮টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ছবির ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যার কোনোটিই বিকৃত করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের তিনটি ঘাঁটিতে—আলি আল-সালেম, ক্যাম্প আরিফজান এবং ক্যাম্প বুহরিং। ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং পাঁচটি জ্বালানি মজুত কেন্দ্র।

এছাড়া কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটির যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'থাড' রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে একটি ই-৩ সেন্ট্রি কমান্ড বিমান এবং একটি রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে।এর বাইরেও আমেরিকা অন্তত ৪০টি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি দামী এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন রয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ২০০-২৪০ মিলিয়ন ডলার।

কুয়েতে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল এবং একটি এ-১০ ওয়ার্থহগ বিমান ধ্বংস হয়েছে। ইরান দাবি করেছে যে তারা একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করেছে, যা ইতিহাসে কোন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমানের সম্ভাব্য প্রথম যুদ্ধকালীন ক্ষতি বলে বিবেচিত হচ্ছে। 

অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ইরানের হামলা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং এখানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ব্যারাক ও হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে বোঝা যায় তারা ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্য নিয়েছিল।

তবে কানসিয়ানের মতে, আমেরিকা হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে দিয়েছে যাতে দামী ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো সস্তা শাহেদ ড্রোনের পেছনে নষ্ট না হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন আহত হয়েছেন।

পেন্টাগন যুদ্ধের খরচ ২৫ বিলিয়ন ডলার দাবি করলেও ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, মার্কিন অর্থনীতির ওপর এর আসল প্রভাব ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু স্থাপনা পুনর্নির্মাণেই ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন ২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট দাবি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪