| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাপাসিয়ায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৩, ২০২৬ ইং | ০২:০৫:৫৩:পূর্বাহ্ন  |  ৫২৭৮৩৩ বার পঠিত
কাপাসিয়ায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র সাড়ে তিন কেজি থেকে ৬ কেজি চাল। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে ভিজিএফ কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় ঘাগটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে এ অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আসন্ন পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় কাপাসিয়া উপজেলার অনুকূলে অতি দরিদ্র ও অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে বিতরনের লক্ষ্যে উপজেলার এগারোটি ইউনিয়নের মধ্যে ১১ হাজার ৮০টি উপকারভোগীর বিপরীতে কার্ড প্রতি ১০ কেজি হারে ১১০ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন চাল উপবরাদ্দ পাওয়া যায়। 

 সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ওজন করলে দেখা যায় প্রায় সাড়ে তিন কেজি থেকে শুরু করে ৬ কেজি। চাল আনুমানিকভাবে বালতিতে করে কোন রকম দায়সারাভাবে চাল দেওয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের। তবে চাল পাওয়া উপকারভোগীদের অনেকেই বিষয়টি জানেন না কিভাবে তাদেরকে চাল দেয়ার কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন কার্ডধারী বলেন,আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখা গেছে তিন থেকে চার কেজি কম। আমরা গরিব মানুষ, তাই প্রতিবাদ করতে পারি না।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি,ওজন মেশিনের ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঘাগটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লুৎফুন্নাহার মুক্তা বলেন, আমি আমার মেম্বারদেরকে বলে দিয়েছি, যতটুকু বরাদ্দ আছে কার্ডধারীদের প্রত্যেককে প্রাপ্যতা অনুযায়ী চাল বিতরণ করবেন।

ওজনে কম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমার জানামতে সবাইকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। যদি কেউ ওজনে কম দিয়ে থাকেন সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এজন্য আমি দায়ী নই।

চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে ঘাগটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও সহকারী পল্লী উন্নয়ন অফিসার সায়েম আল সুমন মুঠোফোনে জানান, ঘাগটিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেই। পরবর্তীতে কোন ধরণের অনিয়ম ব্যতিরেখে চাল বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়। 

তবে তিনি চাল বিতরণে অনিয়মের কথা স্বীকার করে জানান, কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের ছাড়াও মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবাইকে কমবেশি করে চাল দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪