গাজীপুর প্রতিনিধি: মাসিক চুক্তিতে অন্যের প্রাইভেটকার ভাড়ায় চালান বিজয় হোসেন। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে গভীর রাতে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। গাজীপুর মহানগরের হায়দারাবাদ এলাকায় এলে চলন্ত প্রাইভেটকারের গতিরোধ করেন পূবাইল থানার এএসআই আলমগীর হোসেন। পরে চালকের কাছ থেকে জোর করে চাবি ছিনিয়ে ড্রাইভ করে চলে যান তিনি।
চালকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া প্রাইভেটকারটি আর ফেরত না দিয়ে সেটি নিজের বলে দাবি করেন এএসআই আলমগীর। গত ২ মে রাত ২টার দিকে প্রাইভেটকার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গাড়িটির মালিক শরীফ হোসেন পাটোয়ারী বুধবার পূবাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
বিষয়টি শুক্রবার প্রকাশ্যে আসে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা যায়, টঙ্গীর বনমালা দত্তপড়া এলাকার মৃত নূর মুহাম্মদ পাটোয়ারীর ছেলে শরীফ পাটোয়ারীর প্রাইভেটকারটি মাসিক চুক্তিতে চালান হায়দারাবাদ এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বিজয় হোসেন। গত ২ মে রাতে বাসায় ফেরার সময় প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে তল্লাশি চালান পূবাইল থানায় কর্মরত এএসআই আলমগীর হোসেন।
গাড়িতে অবৈধ কিছু খুঁজে না পেয়ে চালকের কাছ থেকে আলমগীর চাবিটি নিয়ে যান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এএসআই নিজেই চালিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যান। এক পর্যায়ে সেটা নিজের বলে দাবি করেন।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শরীফ হোসেন পাটোয়ারী একটি মামলা দায়ের করেন গত বুধবার। পরে অভিযুক্ত এএসআইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাই। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে রয়েছেন।
আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ডোপ টেস্টের জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালেও নেওয়া হয় একবার। কারাগারে থাকায় অভিযুক্ত আলমগীরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব