| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জানতেন না তারা একই বাবা-মায়ের সন্তান

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১০, ২০২৬ ইং | ০১:২০:৪৭:পূর্বাহ্ন  |  ৯৮৬ বার পঠিত
জানতেন না তারা একই বাবা-মায়ের সন্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: একই কর্মস্থলে কাজ করতেন, ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিচয় দিতেন বোন বলে— কিন্তু জানতেন না তারা আসলেই একই বাবা-মায়ের সন্তান। ছোটবেলায় তারা মাত্র প্রায় ১৫ মিনিটের দূরত্বে থাকতেন। দু-জনই ছিলেন দত্তক নেয়া সন্তান। জুলিয়া টিনেট্টি ও ক্যাসান্ড্রা ম্যাডিসন নামের এই দুই নারীর পরিচয় হয় একটি বারে কাজ করতে গিয়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। ১৯৯০-এর দশকে তারা দু-জনই বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে।

ম্যাডিসন জানান, শৈশবে তিনি প্রায়ই তার জন্মদাত্রী মাকে নিয়ে ভাবতেন এবং একদিন তার সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষা বোধ করতেন। তিনি জানতেন, তাকে জন্ম দেওয়া পরিবারটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে এসেছিল। তরুণ বয়সে ম্যাডিসন তার নিজের পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু তার কাছে কোনো জন্মসনদ ছিল না, আর তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ম্যাডিসন বলেন, ‘তারা আমাকে দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তারা খুব, খুব, খুবই গরিব ছিলেন এবং আমাকে বড় করার সামর্থ্য তাদের ছিল না।’

ম্যাডিসন ১৯ বছর বয়সে তার বাহুতে ডোমিনিকান রিপাবলিকের পতাকার ট্যাটু করান, তার শিকড়ের কথা মনে রাখার জন্য। পাঁচ বছর পর ম্যাডিসন একটি বারে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানেই তিনি সহকর্মী টিনেট্টির সঙ্গে পরিচিত হন, যিনি ম্যাডিসনের বাহুতে আঁকা পতাকার ট্যাটুটি লক্ষ্য করেন। কৌতূহল তৈরি হয়, কারণ টিনেট্টির শরীরেও ডোমিনিকান রিপাবলিকের পতাকার একটি ট্যাটু ছিল, তবে সেটি ছিল তার পিঠে। তিনি ২২ বছর বয়সে সেই ট্যাটুটি করিয়েছিলেন, যেখানে তিনি জন্মেছিলেন সেই জায়গার কথা মনে করে। খুব শিগগিরই টিনেট্টি ও ম্যাডিসন বুঝতে পারেন, দু'জনকেই দত্তক নেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দুজন দুজনকে অন্যদের কাছে বোন বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তবে সেটি ছিল নিছক মজার ছলে।

টিনেট্টি বলেন, ওরা বলত, তোমরা দু-জন দেখতে একরকম। এমনকি ম্যাডিসন প্রস্তাবও দেন, তারা মিলিয়ে একরকম জামাকাপড় পরবেন, যাতে আরও সাদৃশ্য দেখা যায়।

সবকিছুই ছিল মজা করে বলা কথা। কিন্তু একসময় তাদের মনে সত্যিই প্রশ্ন জাগে, আদৌ কি তারা আত্মীয় হতে পারেন? তারা দত্তক নেয়ার কাগজপত্র মিলিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেখানে এমন কিছুই পাওয়া যায়নি যা থেকে বোঝা যেতে পারে যে তারা বোন। কাগজে লেখা ছিল তারা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় জন্মেছেন এবং তাদের জন্মদাত্রী মায়েদের পদবিও আলাদা।

কিছু সময় পর তারা দুই জনই নতুন চাকরি পান এবং আলাদা জায়গায় চলে যান। টিনেট্টি কানেকটিকাটেই থাকেন, আর ম্যাডিসন অন্য রাজ্য ভার্জিনিয়ায় চলে যান। তারা যোগাযোগ রাখলেও দূরত্বের কারণে আগের মতো ঘনিষ্ঠ থাকা সম্ভব হয়নি।

এর কয়েক বছর পর, বড়দিনের উপহার হিসেবে ম্যাডিসন একটি জেনেটিক টেস্টিং কিট পান। সেই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি এক দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাইকে খুঁজে পান, যিনি তাকে জানান যে তার জন্মদাত্রী মা ২০১৫ সালে মারা গেছেন। সেই চাচাতো ভাই তাকে পরিবারের আরও অনেক সদস্যের সন্ধান পেতে সাহায্য করেন, যার মধ্যে ছিলেন তার জন্মদাতা বাবাও।

ম্যাডিসনের চাচাতো ভাই তাকে জানান, শিশু বয়সে তার বাবা-মার সময়টা ছিল খুবই কঠিন। তিনি ম্যাডিসনের সঙ্গে তার জন্মদাতা বাবা আদ্রিয়ানো লুনা কোল্লাদোর ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেন।

দত্তক দেওয়ার সময় কী ঘটেছিল, তার কিছুটা ব্যাখ্যা দেন কোল্লাদো। তিনি বলেন, তাদের পরিবারটি এতটাই গরিব ছিল যে তারা মাটির মেঝেতে ঘুমাতেন। ম্যাডিসনের মা যখন তার গর্ভবতী ছিলেন, তখন তার বড় ছেলে সন্তানটিও গুরুতর অসুস্থ ছিল। তখন পরিবারের টিকে থাকার একমাত্র উপায় হিসেবে ম্যাডিসনকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তার বাবা।

শিগগিরই ম্যাডিসন ডোমিনিকান রিপাবলিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। বিমানবন্দরে পুরো পরিবার তার জন্য অপেক্ষা করছিল, সবাই তার মুখের ছবি ছাপানো শার্ট পরে ছিল। ম্যাডিসন তার বাবাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং দুই জনেই কাঁদতে শুরু করেন।

এ দিকে মলি নামে একজন নারী ম্যাডিসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন টিনেট্টির সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তাদের বাবা-মা একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডোমিনিকান রিপাবলিকে গিয়েছিলেন সন্তান দত্তক নিতে। মলির ধারণা ছিল, তিনি ম্যাডিসনের জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) বোন, কারণ তার জন্মসনদে ম্যাডিসনের জন্মদাত্রী মায়ের নামই লেখা ছিল। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, তারা বোন নন — কেবল দূর সম্পর্কের আত্মীয়; আর জন্মসনদে লেখা নামটিও ছিল ভুল।

তবে মলির কাছে ম্যাডিসনের জৈবিক মায়ের একটি ছবি ছিল, যা তার মতে দেখতে একেবারে টিনেট্টির মতো। সেই কারণেই তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসলে ম্যাডিসন ও টিনেট্টিই বোন। ম্যাডিসন ভিডিও কলে তার জন্মদাতা বাবাকে জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আর কোনো সন্তানকে দত্তক দিয়েছিলেন। তিনি এ সময় এমনভাবে তাকালেন, যেন হঠাৎ সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, দিয়েছিলাম।

এই নতুন তথ্য জানার পর ম্যাডিসনের মনে হলো, সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তিনি আরেকটি জেনেটিক টেস্টিং কিট সংগ্রহ করেন এবং তুষারঝড়ের মধ্যে আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে টিনেট্টির কাছে যান। পরীক্ষার ফল আসতে লাগে আড়াই সপ্তাহ। সেই পরীক্ষার ফলাফলে স্পষ্ট লেখা ছিল, টিনেট্টি এবং ম্যাডিসন দুজন আপন বোন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪