স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিন শেষে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন স্বীকার করেছেন, টাইগাররা অন্তত ৫০ রান কম করেছে এবং বোলিংও ছিল পরিকল্পনাহীন ও এলোমেলো।
রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবে পাকিস্তান। এখনও তাদের হাতে রয়েছে ৯ উইকেট এবং তারা পিছিয়ে আছে ২৩৪ রানে।
দল নির্বাচনে একজন মাত্র অফ স্পিনার রাখা এবং পাকিস্তানের একাদশে সাতজন বাঁহাতি ব্যাটার থাকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে একাদশ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, দল নির্বাচনের বিষয়ে কোচিং স্টাফের সরাসরি সিদ্ধান্ত থাকে না।
তিনি বলেন, দল নির্বাচনে আমরা যেহেতু থাকি না, তাই এখানে খুব বেশি বলার নেই। পরিকল্পনার জায়গায় আমরা থাকি, কিন্তু কে খেলবে বা খেলবে না সেটা আমাদের হাতে থাকে না।
বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ আমরা এলোমেলো বল করেছি। টেস্ট ক্রিকেটে কোথায় বল করলে ব্যাটসম্যান চাপে থাকবে সেটা বুঝে বল করতে হয়। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি।
ওভারপ্রতি প্রায় চার রান করে তুলেছে পাকিস্তান। দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফেরা তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে ৪০ রান, ইবাদত হোসেন ৮ ওভারে ৩৮ রান এবং নাহিদ রানা ৯ ওভারে ৪৭ রান দেন। তাদের বোলিংয়ে লাইন-লেন্থের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।
সালাউদ্দিনের মতে, উইকেটে ঘাস থাকায় পেসাররা অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, উইকেটে মুভমেন্ট থাকলে ফাস্ট বোলাররা অনেক সময় গতি বাড়াতে গিয়ে লাইন-লেন্থ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ভালো জায়গায় বল করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বাংলাদেশের ফিল্ডিং নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই কোচ। পাকিস্তানের ইনিংসে স্লিপে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ হাতছাড়া করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। ইমাম উল হক ২৩ রানে জীবন পেয়ে করেন ৪৫ রান। আর অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ২৮ রানে জীবন পেয়ে দিন শেষ করেন অপরাজিত ৩৭ রানে।
স্লিপ ফিল্ডিং নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের বিশেষ করে স্লিপ ক্যাচিংয়ে আরও উন্নতি প্রয়োজন। এটি একটি বিশেষায়িত জায়গা। কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব।
ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল অন্তত পাঁচ সেশন ব্যাটিং করা। তবে কিছু ভুল শটে উইকেট হারাতে হয়েছে।
আমরা যদি আরও ৫০ রান করতে পারতাম, তাহলে অবস্থান আরও ভালো হতো। তারপরও ৪০০ রান পার করা ইতিবাচক, বলেন তিনি।
পাকিস্তানের বোলিংয়ের প্রশংসাও করেন সালাউদ্দিন। বিশেষ করে পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আব্বাস এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারে, সেটাই তার শক্তি। আজ সে কন্ডিশন খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে।
তবে এখনো ম্যাচে ফেরার আশা ছাড়ছেন না বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ। সালাউদ্দিনের বিশ্বাস, তৃতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন টাইগার পেসাররা।
তিনি বলেন, এই উইকেটে এখনও বোলারদের অনেক কিছু করার আছে। আমাদের ফাস্ট বোলাররা অভিজ্ঞ, তারা আগেও ম্যাচ জিতিয়েছে। আশা করি, আগামীকাল ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি