বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনে এক দস্যু বাহিনীর হাতে অপহরণের তিন দিনের মাথায় ১১ জেলেকে ছিনিয়ে নেয় আরেক দস্যুদল। দস্যুদের আস্তানায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় জেলেদের। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়নি, তৃষ্ণা মেটাতে খেতে দেওয়া হয়েছে নদীর নোনা পানি। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কান্নার শব্দ শোনানো হতো।
৭ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে শুক্রবার (৮ মে) রাতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) সাংবাদিকদের জানান এসব তথ্য। তার ভাষ্যমতে তাদের মুক্তির জন্য দস্যুদের দিতে হয়েছে মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলোরকোল এলাকার নদীতে মাছ ধরার সময় দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের তিন দিন পর জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে অপর বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে দুই বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। পরে জাহাঙ্গীর বাহিনীকে পরাস্ত করে তাদের কাছ থেকে ১১ জেলেকে ছিনিয়ে নেয় করিম শরীফ বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা।
শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) জানান, প্রথমে আমরা জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়েছিরাম। পরে অস্ত্রের মুখে করিম শরীফ বাহিনী আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর মুক্তিপণের দাবিতে চলে নির্যাতন।
মুক্তি পাওয়া অন্য জেলেরা হলেন, উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির হাওলাদার (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (৩০), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মাস্লুইস গ্রামের রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)। মুক্তি পাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জেলেরা জানান, করিম শরীফ বাহিনী মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশনের আওতাধীন আড়ুয়াবেড় নদীর মোহনার বনে তাদের নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়িতে ফেরেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেদের এক মহাজন জানান, দস্যুরা প্রথমে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু