বেনাপোল প্রতিনিধি: রমজান মাস শুরুর পর থেকে যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ইফতারে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। মাছ, মুরগি ও মাংসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শসা কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অনেক দোকান মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্রেতারা আশা করছেন, এই পবিত্র মাসে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় থাকবে।
জানা গেছে, রমজান মাস শুরুর পর থেকে ইফতার ও সেহরির বাজার করতে এসে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, চিনি ও বিভিন্ন সবজির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্য না থাকায় ক্রেতারা সঠিক দাম যাচাই করতে পারছেন না। ফলে একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দোকানে ভিন্ন দাম আদায় করা হচ্ছে।
শাকসবজি, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শসা ৫০ টাকার জায়গায় ১৪০–১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু এক হালি ১০০–১২০ টাকা। ৩০ টাকার বেগুন ৮০–১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪৫ টাকার কলা এখন ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত শনিবার বিকেল ও রবিবার সকালে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অনেক দোকান মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
ক্রেতা রাসেল ইসলাম বলেন, পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর ইফতারির সব জিনিসের দাম অনেক বেশি। খিরার দাম ১০০ টাকার ওপরে, শসা ১৪০ টাকা। আগে লেবু হালি ২০ টাকা ছিল, এখন একটি লেবুর দাম ২০০ টাকা। যে কলা ৪৫ টাকা করে কিনতাম, সেই কলা এখন ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যারা যেমন পারছে তেমনভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে।
আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের দাম সীমিত থাকবে। কিন্তু সীমিত তো দূরের কথা, ব্যবসায়ীরা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বেগুন রমজানের আগে ৩০ টাকা ছিল, এখন ১০০ টাকা কেজি। আলু আগে ৭ কেজি ১০০ টাকা ছিল, এখন ৬ কেজি করা হয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, আদাসহ সব মসলার দাম কেজিতে ২০–৩০ টাকা বেড়েছে। গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ কীভাবে বাঁচবে—তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সবজি বিক্রেতা সেলিম রহমান বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
কলা বিক্রেতা সবুর হোসেন বলেন, যে কলা আগে ২৫–৩০ টাকায় কিনতাম, সেই কলা এখন ৪৫–৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর ৪৫ টাকায় কেনা কলা এখন ৮০–৮৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। চাষীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের করার কিছু নেই। তারা দাম বেশি বাড়ালেও আমরা মাত্র ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছি।
বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আবু তালেব বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আমরা সঙ্গে ছিলাম। বাজারে অনেক অনিয়ম দেখা গেছে। দ্রুত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার চেষ্টা করবো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম বলেন, শার্শা উপজেলায় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কাজ করা হচ্ছে। মুদি, মাছ ও মাংসের দোকানে নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক মুদি ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন