ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে প্যানেলভুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা এখানকার প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। নির্বাচনী পরিবেশ খুব চমৎকার রয়েছে। আমরা আশাবাদী, এমন সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়েই আগামী ২৯ অক্টোবর ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।’
নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবছি না। ধরে নিতে পারেন, সেনা মোতায়েন হবে না। কারণ, এখানে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তা সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে প্রায় তিন গুণ। তাই এখানে বাড়তি কোনো পদক্ষেপ বা “ওভার ইন্স্যুরেন্সের” প্রয়োজন আছে বলে কমিশন মনে করে না।’
নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সুযোগ থাকবে না।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো অপকর্ম করার সুযোগ না পান। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাব সদস্যদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা থাকবে। নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে ড্রোনও। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার জানান, এ পর্যন্ত তিনটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি দুটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। সেগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইনশা আল্লাহ, একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা নিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসী গর্ববোধ করবেন।’
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্যানেলভুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব