| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোল বন্দরে পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকি: ২৪ জন আসামির কেউই গ্রেপ্তার হয়নি

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৯, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৮:০৯:অপরাহ্ন  |  ৯৩৩ বার পঠিত
বেনাপোল বন্দরে পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকি: ২৪ জন আসামির কেউই গ্রেপ্তার হয়নি

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরও দুইটি মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন দুই মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিএন্ডএফ প্রতিনিধি ও আমদানিকারকসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে একই ঘটনায় সাত কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ফলে এক সপ্তাহে মোট তিনটি মামলায় ৪৩ জন আসামি হলেও কেউই গ্রেপ্তার হয়নি।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ভারত থেকে ৩২৬ কার্টন কালার পেন্সিল, ওয়াটার কালার পেন্সিল ও ইরেজার ঘোষণায় একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে প্রবেশ করে। ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এক্সপোর্টের পাঠানো ওই চালানের আমদানিকারক ছিল যশোরের শার্শার টিএস ইন্টারন্যাশনাল।

পরে ওই চালানে ঘোষণার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ কার্টন উচ্চ শুল্ককরভুক্ত পণ্য জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৩০ কার্টন দামি শাড়ি এবং ২০ কার্টন ফেসওয়াশ পাওয়া যায় বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ১২ মার্চ ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণায় আনা একটি চালানে প্রায় ছয় কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ঈদের ছুটিতে ওই শেডে সংরক্ষিত চালান থেকে দামি পণ্য সরিয়ে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখার অভিযোগও উঠে, যা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া ৩১ মার্চ আরেকটি চালানে ঘোষণাবহির্ভূত ৬৭৯ পিস শাড়ি জব্দ করে কাস্টমস। একইভাবে ৪১ নম্বর শেড থেকে পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগেও তদন্ত চলছে।

গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও কাজী নাঈম উদ্দীন পৃথক দুই মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। এর আগে ৯ জুন আরও একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত কেউই ছাড় পাবে না।”

বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রাশেদুজ্জামান জানান, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ১৪টি চালান জব্দ করে প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা রোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪