পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় বুধবার (৬ মে) দিনগত রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথের। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুভেন্দু শিবিরেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এমন আবহে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন টলিউড অভিনেত্রী মাফিন। তিনি জানান, নির্বাচনের ঠিক আগে প্রায় দেড় মাস আগে চন্দ্রনাথের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে শুভেন্দু অধিকারীর সূত্রে চন্দ্রনাথের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। মাফিনের ভাষায়, চন্দ্রনাথ খুব কম কথা বলতেন, তবে অত্যন্ত দায়িত্ববান ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসেবেই তাকে দেখতেন তিনি।
ভোটপ্রচারের সময় পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়ে থাকার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে গাড়ির বন্দোবস্ত—সবকিছুই চন্দ্রনাথ নিজে দায়িত্ব নিয়ে করতেন বলে জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাতায়াত করবেন, সবকিছুই তিনিই দেখতেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে বুধবার রাতের প্রসঙ্গে। মাফিন জানান, চন্দ্রনাথ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর সামনে আসার প্রায় আধঘণ্টা আগে তাকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি অফিসে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সেই বার্তায়। কিন্তু এরপর আর কোনো উত্তর আসেনি।
মাফিন বলেন, মনে হচ্ছে, তিনি যখন মেসেজ পাঠাচ্ছিলেন, তখনই হয়তো ঘটনাটি ঘটে গেছে। চন্দ্রনাথের কাছ থেকে আর কোনো রিপ্লাই না পাওয়ায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। ইতোমধ্যে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকেও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাফিন। তিনি বলেন, ৪ মে ভবানীপুর থেকে বেরোনোর পর চন্দ্রনাথ খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। পুরো কলকাতার দায়িত্ব ছিল তার ওপর। এত লড়াই করে শুভেন্দু অধিকারী জায়গা পেয়েছেন, আর সেই আনন্দের সময়েই এমন ঘটনা ঘটল—এটা ভাবতেই পারছেন না তিনি।