| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাজারে স্বস্তি নেই কোথাও, বাড়ছে সব পণ্যের দাম

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৮, ২০২৬ ইং | ১১:৪২:৫৩:পূর্বাহ্ন  |  ১২৬ বার পঠিত
বাজারে স্বস্তি নেই কোথাও, বাড়ছে সব পণ্যের দাম

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ক্রমেই পড়ছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। সয়াবিন তেল, চিনি, ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পর এবার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে সবজি, ডিম ও চালের বাজার। সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা, সেগুনবাগিচা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, সবজি ও চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজার করতে এসে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে বাজার করতে আসা কামাল রহমান বলেন, বাজারে এলে মনে হয় পকেট ডাকাতি হচ্ছে। সবজির চড়া দাম শুনে যখন ডিম কিনতে গেলাম, দেখি সেখানেও আগুন। গত সপ্তাহে যে ডিম ১৩০ টাকা ডজন কিনেছি, আজ সেটা ১৫০ টাকা চাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। মাছ-মাংস তো অনেক আগেই তালিকা থেকে বাদ গেছে। এখন ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ কিংবা ডিম ভর্তা খেয়েও টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে বাজারে দাম আরও বেড়েছে। পাশাপাশি সবজির দাম বেশি থাকায় সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। বাড়তি এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে ডিমের বাজারও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। আর রমজান মাসে একই ডিম বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১১০ টাকায়।

বাজারে আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মুরাদ রহিম বলেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে গেছে। সবজির দাম বাড়ায় মানুষ এখন বেশি করে ডিম কিনছে। গত দুদিনে ডিমের দাম লাফিয়ে বেড়ে ১৫০ টাকায় উঠেছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম এখনো সহনীয় আছে।

চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। বোরো ধান কাটা শুরু হলেও তার ইতিবাচক প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি। বর্তমানে মাঝারি মানের চাল কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি চালের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। সম্প্রতি সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করলেও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক দোকানি তেল বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে তেলের সরবরাহ কমে গেছে।

এদিকে মাছ ও মাংসের বাজারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানীর বাজারে গরুর মাংস মানভেদে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। এক কেজি ওজনের রুই বা কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো তুলনামূলক কম দামের মাছও এখন ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা গৃহিণী রেহানা পারভীন বলেন, এখন বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে শুধু ঘুরতে হয়, ব্যাগে ভরার মতো সাশ্রয়ী কিছু আর নেই। মাছ-মাংসের দাম এত বেড়েছে যে, পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে নগরজীবনে বাড়ছে অস্বস্তি। সীমিত আয়ের মানুষ বলছেন, বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪