ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের নয়াদিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের বাবুর্চি কেশব নেগিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানী দিল্লির অভিজাত এলাকা মালভিয়ার ‘ফ্লারিশ ইন’ হোটেলের বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
শনিবার (৬ জুন) তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দিল্লি পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেগির চরম অবহেলার কারণেই হোটেলটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই মামলায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ছাড়া নেগির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে বাবুর্চি কেশব নেগির অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আগুন লাগার পর নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি হোটেল থেকে পালিয়ে যান।
তবে অভিযুক্ত বাবুর্চি জানান, রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তিনি হোটেলের প্রধান পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে ঘন ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন।
পুলিশি তদন্তে আরও জানা গেছে, বৈদ্যুতিক চুলা বিস্ফোরণের পর নেগি হোটেলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক দরজাগুলো লক (তালাবদ্ধ) হয়ে যায়। ফলে ভেতরে থাকা অতিথিরা আটকা পড়েন। এমনকি হোটেলের বাথরুমের দরজা খুলতে না পেরে এক দম্পতি ভেতরেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
পুলিশের দাবি, নেগির দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্তের কারণে আগুন পুরো হোটেলকে গ্রাস করে এবং মানুষ বের হওয়ার সুযোগ হারায়। তদন্তকারীরা এখন পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হোটেলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ভবনের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
২০২২ সালের পর ভারতের জাতীয় রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। গত ৩ জুন সকাল সাড়ে ৮টায় পাঁচতলা সরু ভবনটির নিচতলার রেস্টুরেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এই দুর্ঘটনায় ৯ জন ভারতীয় এবং ১২ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।
জানা গেছে, ভবনটিতে ২২টি কক্ষ থাকলেও যাতায়াতের জন্য মাত্র একটি প্রবেশ ও বাহির পথ ছিল। এছাড়া জানালাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং প্রধান দরজাটি ছিল সেন্সর-চালিত।
সূত্র: এনডিটিভি
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব