রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: গরমে বাইরে থেকে ফিরলেই ত্বকে জ্বালাভাব, লালচে হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত উত্তাপের সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে অনেকেই ঠাণ্ডা পানিতে বরফ মিশিয়ে তাতে মুখ ডুবিয়ে রাখেন বা সরাসরি বরফ ত্বকে ব্যবহার করেন। সামাজিক মাধ্যমেও বিভিন্ন তারকার আইস ফেশিয়াল করার প্রবণতা এই অভ্যাসকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতি যতটা উপকারী মনে হয়, ততটা সবসময় নিরাপদ নয়।
ত্বকে বরফ ব্যবহারের কিছু তাৎক্ষণিক উপকারিতা রয়েছে। এটি চোখ ও মুখের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে, ক্লান্তির ছাপ কিছুটা হালকা করে এবং ত্বকের রন্ধ্র সাময়িকভাবে সংকুচিত করে। রোদে পোড়া ত্বকের লালভাব ও জ্বালাভাবও কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। ফলে ত্বককে তুলনামূলক সতেজ ও উজ্জ্বল দেখায়।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য সমান নয়। যাদের ত্বক অতিমাত্রায় সংবেদনশীল বা রোজাসিয়া-এর মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সরাসরি বরফ ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া যাদের ত্বক খুব শুষ্ক বা ঠাণ্ডায় অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তাদেরও এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরফ ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। কখনোই সরাসরি ত্বকের ওপর বরফ প্রয়োগ না করে সেটিকে পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করা ভালো। বিকল্পভাবে পানির সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকে বরফ ধরে রাখা ঠিক নয়, কারণ এতে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্যবহার শেষে মুখ ভালোভাবে মুছে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আইস ফেশিয়াল সাময়িক স্বস্তি দিলেও এটি কোনো স্থায়ী ত্বক সমস্যার সমাধান নয়। তাই নিয়মিত ত্বকচর্চার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সচেতনতার সঙ্গে সীমিতভাবে এটি ব্যবহার করাই উত্তম।
সূত্র: আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম