| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দখলদারদের কবলে জামালপুরের গবাখালী

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১১, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৩:২৬:অপরাহ্ন  |  ৫৩৩৮২০ বার পঠিত
দখলদারদের কবলে জামালপুরের গবাখালী

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর শহরে জলাবদ্ধতা নিরশন, পরিবেশ ও শহর বাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে প্রায় ৬৫ বছর আগে খনন করা হয় গবাখাল। স্থানীয় ভাবে যেটি গবাখালী নামে পরিচিত। 

জানা যায়, জামালপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরশন, নিয়ন্ত্রণ, সহজতর কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য আহরণ ও প্রজজনের লক্ষ্যে ১৯৬০-৬১ সালের দিকে টাকার বিনিময়ে কাজের ভিত্তিতে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রস্থ এইখালটি খনন করা হয়। 

জামালপুর শহরের শেখেরভিটা থেকে মনিরাজপুর, ছুটগড়, সিংড়িবিল, পলিশা, ধোপাকুড়ি, নাকাটি ও দামেশ্বর হয়ে কেন্দুয়া কালবাড়ি বাজার সংলগ্ন ঝিনাই নদীর সাথে সংযোগ করা হয়।

তিরুথা গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিয়ার উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৬২ সালে ভূমি রেকর্ডের ১-২ বছর আগে থেকে মহকুমা ও পৌরসভা এই খালটি খনন শুরু করে। আমি তখন ছোট। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। খাল খননের খবর শুনে আমরা সহপাঠীরা ত দেখতে গেছি ।

জামালপুর পুলিশলাইন সংলগ্ন নার্সারি ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন (৭৬) বলেন, ওই সুময় এত্ত বড় খাল খুদার খবর হুইনে আমরা হগলদিন গিয়ে তামশা দেখতাম। এই খালে আমরা নানা কিসিমের মাছ ধরতাম। কই গেলো দিন গুইলে।

পলিশা গ্রামের মান্নান মাস্টার বলেন, আমরা তখন অনেক ছোট। আমাদের বাড়ির পাশ দিয়েই খালটি খনন করা হয়। আমার বাপ-দাদার জমিও আছে এই খালে। সরকার আমাদের জমির বদলে টাকা দিছে। এটি আরওআর রেকর্ডভুক্ত খাল। খালটি এখন ময়লা-আবর্জনা ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। এতে শহরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যেকারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে হাটুবা কোমর পানিতে তলিয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী জামালপুর শহর। খালটি উদ্ধার ও পুনঃখনন জরুরি বলে মনে করেন তিনি ।

তিনি আরও বলেন আমাদের শৈশব থেকে দেখে আসছি খালটিতে স্বচ্ছ জলাধারা ছিলো। প্রচুর মাছ পাওয়া যেতে। বড়দের সাথে আমি নিজেও স্কুল জীবনে মাছ ধরেছি। বোয়াল, শোল, গজার, বাইম, টেংরা, পুটি, টাকিসহ নানা জাতের দেশীয় মাছে পরিপূর্ণ  ছিলো গবাখালী। কি স্বাদের মাছে ছিলো এই খালে । আমরা অনেকেই সাঁতার শিখেছি এই খালে। আমাদের জলকেলীতে মেতে উঠা শৈশব এ প্রজন্মের কাছে কল্পনার বিষয় মাত্র ।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় জেলেদের জীবিকার উৎস ছিলো এই খাল। খালের দুই পাশে শতশত একর কৃষি জমিতে সহজ ভাবে সেচ দিয়ে স্বল্প খরচে কৃষিপণ্য উৎপাদন করতেন। খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা এই খালকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখে এসেছে সুদীর্ঘকাল। কথিত আছে এই খালটি খননের ফলে জামালপুর শহরে কোনদিন জলবদ্ধতা হয়নি। 

স্থানীয়রা জানান,গত দুই দশক আগেও এ খালের পানি প্রবাহ ছিলো বাঁধাহীন। এই খালের জন্য ১৯৮৮ ও ৯৮ এর ভায়বহ বন্যার সময়ও শহরের রাস্তাঘাটে পানি দেখা যায় নি। 

কালের বিবর্তনে স্বার্থান্বেষী ও দখলবাজ মানুষের লোভের শিকার হয়ে ঐতিহ্যবাসী ও জনকল্যাণ মূলক গবাখাল এখন ভরাট আর অবৈধ দখলের কবলে পড়ে স্রোতবাহী শহরবাসীর প্রিয় গবাখালীন অস্তিত্ব বিলীনের দ্বারপ্রান্তে । দুইপাড়ের অনেক স্থানেই এখন গড়ে উঠেছে বসতি। 

পয়নিষ্কাশনের জন্য নিরাপদ মনে করে অনেকেই খালের পাড়ে স্থাপন করেছে পায়খানা। গৃহস্থালী, ক্লিনিকেল বজ্র, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ ক্ষতিকারক ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে খালের পানি দূষণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গবাখালীর বুকে শেষ পেরেক মেরেছে পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন একটি রঙিন কাগজের মিলের নির্মম আগ্রাসন। মিলের রাসায়নিক তরল পদার্থ নির্গমন করা হয় গবাখালের পানিতে। এখন মাছ তো দূরের কথা খানে পানিতে কোন জলজপ্রাণিও খোঁজে পাওয়া যায় না।

খালটির সূচনা পথই আটকে দিয়েছে স্বার্থপর মানুষরা। জামালপুর শহরের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তরের পানি এ খাল দিয়েই ঝিনাই নদীতে পড়তো। এখন শীর্ণধারায় পানির সাথে বিষ নেমে আসে প্রাণের ঝিনাই নদীতে। যেকারণে নদীও এখন মাছশূন্য হয়ে পড়েছে ।

মৃতপ্রায় গবাখালী আবারো প্রাণ ফিরে পাবে, প্রবাহিত হবে স্বচ্ছ পানিধারা এটাই প্রত্যশা জামালপুর শহরবাসীর। জামালপুর পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মানবাদিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, খালটি পনঃগনন ও দখল মুক্ত হলে ফিরে পাবে পরিবেশের হারানো স্মৃতি। শহরবাসী রক্ষা পাবে জলাবদ্ধতা থেকে।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু  

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪