রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।
প্রেসসচিব জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রেসসচিব বলেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয় এটি দেশের কৃষকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সুবিধা পাবেন।
কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা পাবেন। এছাড়া সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যাবে। ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের পরামর্শও দেওয়া হবে।
এই সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং দুগ্ধ খামারিরাও এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের আট বিভাগের নয়টি নির্বাচিত উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। এছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদানও দেওয়া হবে।
প্রেসসচিব জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট প্রকল্প শেষ করার পর আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম