স্টাফ রিপোর্টার: আজ ৪ মার্চ—তরুণ কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ–এর জন্মদিন। বসন্তের দিনে জন্ম নেওয়া এই কবি শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম। অল্প বয়সেই তিনি নিজের ভাবনা, নীরবতা ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকসমাজে আলাদা পরিচিতি তৈরি করছেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও রাষ্ট্রচিন্তার এই সমান্তরাল পথচলা তাঁর লেখায় এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ভাষার সৌন্দর্যবোধের সঙ্গে সমাজবাস্তবতার বিশ্লেষণ যুক্ত হয়ে তাঁর কবিতায় তৈরি হয়েছে গভীর ও সংযত এক অভিব্যক্তি।
তাওহীদাহ্ রহমান নূভের কাছে লেখালেখি ও বইপড়া কেবল শখ নয়, বরং আত্মরক্ষার এক নীরব আশ্রয়। শব্দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অন্তরঙ্গ—যেন প্রতিটি বাক্য তাঁর নিজের ভেতরের অজানা সত্তাকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন তিনি; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই খুঁজে পান ভাষার স্বচ্ছতা ও অনুভবের গভীরতা। তাঁর কবিতায় তাই অকারণ উচ্চকণ্ঠতা নেই, নেই বাহুল্য অলংকার—বরং আছে মৃদু, স্থির, অথচ দৃঢ় এক কণ্ঠস্বর।
একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল তাঁর। মঞ্চ ও আলো-ছায়ার জগৎ তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে জীবনের ভিন্ন মোড় তাঁকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে—যেখানে তিনি নিজেই লেখেন, নিজেই নির্মাণ করেন নিজের চরিত্র, দৃশ্য ও নীরবতা। সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো তাঁর লেখাকে দিয়েছে দৃশ্যমানতা ও সংলাপের সূক্ষ্মতা।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ—এই ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্যও প্রতিফলিত হয় তাঁর লেখায়। তিনি বিশ্বাস করেন, শব্দের দায় আছে; তাই অপ্রয়োজনীয় কোলাহল এড়িয়ে সংযত অনুভব ও স্পষ্ট অবস্থানেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সমাজ, সম্পর্ক, নারীর অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত আত্মসংলাপ—সবকিছুই তাঁর কবিতায় আসে নির্লিপ্ত অথচ গভীর ভঙ্গিতে।
জন্মদিনে সাহিত্যাঙ্গনের সহপাঠী, বন্ধু ও পাঠকমহল তাঁর প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের এই কবির কাছে প্রত্যাশা—তিনি তাঁর নীরব যাত্রা অব্যাহত রাখবেন, শব্দের ভেতর দিয়ে সময়, সমাজ ও নিজের ভাঙাগড়ার গল্প বলে যাবেন আরও গভীরভাবে।
তাওহীদাহ্ রহমান নূভকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা—তাঁর কলম হোক আরও প্রজ্ঞাময়, তাঁর নীরবতা হয়ে উঠুক আরও উচ্চারণমুখর।
রিপোর্টার্স২৪/