স্টাফ রিপোর্টার: চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের মাধ্যমে আইনবিরোধী ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন শিশু-কিশোর ও তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, ওটিটি কনটেন্টকে সেন্সরশিপের আওতায় আনা এবং প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আলাদা গাইডলাইন প্রণয়নের দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি ধূমপানসহ নেতিবাচক দৃশ্যসংবলিত চলচ্চিত্রকে জাতীয় পুরস্কারের অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও উঠে আসে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন: সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির রফিকুল আনোয়ার রাসেল, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোতে ধূমপানের দৃশ্য উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তাণ্ডব চলচ্চিত্রে ১০২ বার, আলি সিনেমায় ৫৫ বার এবং বরবাদ চলচ্চিত্রে ১২১ বার ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শনের তথ্য তুলে ধরেন। তার মতে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এ ধরনের দৃশ্য প্রচারের সুযোগ নেই এবং সেন্সর সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
এস এম আব্দুর রহমান বলেন, সবার প্রচেষ্টায় পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান অনেকাংশে কমেছে। কিন্তু চলচ্চিত্র ও ওটিটি কনটেন্টে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য প্রদর্শন অযৌক্তিক এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে সার্টিফিকেশন বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো প্রচারণার কৌশল বদলেছে এবং ই-সিগারেট তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। বিনোদন মাধ্যমে প্রধান চরিত্রদের মাধ্যমে সিগারেট ও ই-সিগারেটের প্রচারণা এ প্রবণতা বাড়াচ্ছে। তিনি ওটিটি কনটেন্টকে সেন্সরশিপের আওতায় আনার আহ্বান জানান এবং ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি