| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬ ইং | ০১:৩২:১৭:পূর্বাহ্ন  |  ৬৩৯৯০৬ বার পঠিত
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে অমর একুশের ঐতিহাসিক গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ ধ্বনিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি। তার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর তারা ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতারা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনার এলাকা সেজে ওঠে বর্ণিল আলপনায়। চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেয়াল ও সড়কে রংতুলির আঁচড়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বর্ণমালার শিল্পরূপ তুলে ধরেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করলে সর্বস্তরের মানুষের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপরই ফুল হাতে খালি পায়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গুনগুন করতে করতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সিসিটিভি নজরদারি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মোতায়েনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।

পরে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে দিনটি আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি শোক ও গৌরবের এক অনন্য সংমিশ্রণ—যেখানে বেদনার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার অমর গৌরবগাথা।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪