জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এক বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এই মিছিল ও সমাবেশ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবির সঙ্গে যুক্ত।
বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ন্যায্য স্লোগান দিতে থাকেন, যেমন- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘পুলিশ না বিচার, বিচার বিচার’, ‘এক হাদি কবরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, এবং ‘এই মুহূর্তে দরকার, পুলিশ লীগের সংস্কার’।
বিক্ষোভ সমাবেশে জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, লাল জুলাইয়ের অন্যতম প্রতীক ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের ওপর হামলা মানে বর্তমান সরকার আমাদের নয়। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পেটুয়া আচরণ সংস্কার করা প্রয়োজন।
জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ফাতেমা অওরিন বলেন, আমার হাদি ভাইয়ের বিচার চাইতে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি করি, হাদি হত্যার বিচার হবে এবং পুলিশ লীগকে সংস্কার করতে হবে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আজকের হামলার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ সচেতন হয়ে হ্যাঁ ভোট প্রদান করবে। এরপরই পুলিশ লীগের সংস্কার শুরু হবে। এ পর্যন্ত সবাইকে শান্ত ও সজাগ থাকতে হবে।
জকসু সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, যখন প্রকাশ্যে অপকর্ম করে আওয়ামী লীগের কর্মীরা, তখন পুলিশ তাদের পক্ষ নেয়। অথচ আমাদের ভাইরা ন্যায্য দাবি নিয়ে যখন মাঠে আসে, তখন পুলিশ নেকড়ে হয়ে যায়। সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা অবিচার প্রতিরোধ করা যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি ন্যায্য বিচারের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং পুলিশের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রতি জোর দেন। তারা সতর্ক করেন, যদি পুলিশের এই আচরণ চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন ও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি