সিনিয়র রিপোর্টার: নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীরা। তারা বলছেন, দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সরকারি কর্মচারীরা যমুনার সামনে এসে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা সাদা কাপড় পরে উপস্থিত হয়ে জানান, এটি তাদের শেষ প্রতিবাদের প্রতীক।
নরসিংদী থেকে আসা সরকারি কর্মচারী হালিমা আক্তার বলেন, গত ৯ বছর ধরে তাদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। “আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের ন্যায্য পে-স্কেল চাই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পে কমিশন গঠন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দাবি পূরণ না হলে সরকারি কর্মচারী হিসেবে সম্মান হারানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা সরকারি কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, বারবার আশ্বাসে তারা ক্লান্ত। এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, লিখিত প্রজ্ঞাপন চান তারা। তার ভাষায়, সাদা কাপড় পরে আসা মানে একটি স্পষ্ট বার্তা—প্রয়োজনে জীবন দেবো, কিন্তু পে-স্কেল ছাড়া ফিরবো না।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সবচেয়ে বড় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরাই। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা জানান, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান বেতন কাঠামোয় পরিবার পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব। অনেকেই ঋণ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন এবং সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
যমুনার সামনে অবস্থান থেকে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ঘোষণা দেন, নির্বাচনের আগেই নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। অন্যথায় কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে। দাবি আদায়ে যেখানেই বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি