| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানের কাছে এখনও ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে: সিআইএ

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৯, ২০২৬ ইং | ১০:২৬:৪৭:পূর্বাহ্ন  |  ৬২৮৯ বার পঠিত
ইরানের কাছে এখনও ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে: সিআইএ
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত


ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এক গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ইরান এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও দেশটি আরও তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। সিআইএর নথি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই মূল্যায়ন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইরানবিষয়ক গোপন মূল্যায়নগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহের হামলার পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ অক্ষত রয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ভূগর্ভস্থ প্রায় সব সংরক্ষণাগার পুনরুদ্ধার ও পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত করা হয়েছে এবং যুদ্ধের শুরুতে প্রস্তুত থাকা নতুন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত করা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের হাতে আগের তুলনায় মাত্র ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।

বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা গোপন গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মূল তথ্যগুলো দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে

নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, নৌ অবরোধের ফলে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংকুচিত হচ্ছে এবং আয়ের উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

যুদ্ধের শুরুতে ইরান তাদের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সামরিক সরঞ্জাম হারালেও পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিআইএর মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার আগে ইরান অন্তত ৯০ থেকে ১২০ দিন, এমনকি তারও বেশি সময় অবরোধ মোকাবিলা করতে পারবে। দেশটি অবরোধের প্রভাব কমাতে কিছু তেল ট্যাংকারকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তেলক্ষেত্রে উৎপাদনের প্রবাহও নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইরানের অস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গোপন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির কাছে প্রায় আড়াই হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন ছিল। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টেও এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ধ্বংস হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে কম খরচের ড্রোন বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ এসব ড্রোন ছোট ও সহজে গোপন স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, একটি ড্রোন যদি কোনো জাহাজে আঘাত হানে, তাহলে তেল ট্যাংকারগুলো বিমা সুবিধা হারাতে পারে। তার মতে, দীর্ঘ অবরোধ চললেও ইরান সহজে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, সামরিক সাফল্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে।

রিপোর্টার্স২৪/ এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪