স্বাস্থ্য ডেস্ক: কম বয়সিদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হৃদ্রোগের ঝুঁকি। শরীরচর্চা করতে করতেও অনেক তরুণ হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু চেনা ও অজানা অভ্যাসই হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে।
আগে ধারণা ছিল, বয়স বাড়লেই কেবল হৃদ্যন্ত্রের যত্ন জরুরি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও ঘুমের মধ্যেই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকমহল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্থূলতা, কোলেস্টেরল ও থাইরয়েডজনিত সমস্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু ভুল অভ্যাস।
লন্ডনের অভিজ্ঞ হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেরেমি লন্ডন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হার্টের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর কয়েকটি কারণের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, পরিচিত কারণের পাশাপাশি কিছু অবহেলিত বিষয়ও হৃদ্যন্ত্রের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠছে।
মদ্যপান
ডা. জেরেমির মতে, হার্টের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভ্যাস হলো নিয়মিত মদ্যপান। ক্ষতির মাত্রায় এর নম্বর ১০-এর মধ্যে ১০। তিনি বলেন, অ্যালকোহল শরীরের প্রতিটি কোষের ক্ষতি করে এবং এর কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। ধূমপানও হৃদ্যন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
একাকিত্ব
ব্যস্ত জীবনে একাকিত্ব একটি নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। শুধু বয়স্করাই নন, তরুণদের মধ্যেও সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নিঃসঙ্গতা বাড়ছে। ডা. জেরেমির মতে, একাধিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে ধূমপান বা স্থূলতার মতোই একাকিত্বজনিত উদ্বেগ হৃদ্যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। ক্ষতির স্কেলে এর নম্বর ৮। নিঃসঙ্গতা অবসাদ ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
প্রক্রিয়াজাত মাংস
প্যাকেটজাত ও হিমায়িত মাংসজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত। চিকিৎসকদের মতে, এসব খাবার হার্টের শত্রু। ডা. জেরেমির ক্ষতির তালিকায় এর নম্বর ৫। এই ধরনের খাবার কোলন ক্যানসার ও টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়। সহজলভ্য ও সুস্বাদু হওয়ায় তরুণদের মধ্যে এসব খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়লেও চিকিৎসকেরা টাটকা, কম চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্লাস্টিকের ব্যবহার
রান্নাঘরের প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড, পাত্র ও কৌটাও হৃদ্যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে তা শুধু হার্ট নয়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ক্ষতির তালিকায় একেও ৫ নম্বর দিয়েছেন ডা. জেরেমি।
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট সুস্থ রাখতে হলে শুধু ওষুধ নয়—জীবনযাপনের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই পারে হৃদ্যন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে।
রিপোটার্স ২৪/এসসি