| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দেশ যেন কখনোই আবার পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে না ফেরে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৫, ২০২৬ ইং | ১৭:১৯:৫৩:অপরাহ্ন  |  ১০১১ বার পঠিত
দেশ যেন কখনোই আবার পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে না ফেরে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব যে বাংলাদেশ যেন কখনোই আবার কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে ফিরে না যায়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমির আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট-পরবর্তী সময় মোটেও মসৃণ ছিল না। তখন প্রধান উপদেষ্টা আমাকে সরকারের দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানান। পরে তিনি আমাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার) হিসেবে দায়িত্ব দেন।

তিনি বলেন, তখন আমাদের সামনে অন্তত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমত, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয়ত, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তৃতীয়ত, পুরো রূপান্তর (ট্রানজিশন) প্রক্রিয়াটি যেন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী বলেন, নানা ধরনের বাধা ও সমস্যা থাকলেও আমরা তিনটি লক্ষ্যই অর্জন করতে পেরেছি। নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও এটিকে একটি চমৎকার নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা যেসব আশঙ্কা করেছিলাম, সেগুলোর কোনোটিই বাস্তবে ঘটেনি। ফলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।"

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আন্দোলনের প্রতিটি শহীদ তাঁদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একই সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে যারা আমাদের মাঝে রয়েছেন, তাঁদের প্রতিও আমি গভীর সমবেদনা জানাই।

মন্ত্রী আরও বলেন, তাদের ত্যাগ, সাহস ও অদম্য মনোবল দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মোৎসর্গের আদর্শে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

নিজের লিখিত বক্তব্যের বাইরে এসে তিনি বলেন, দুই মাস আগে ঠিক এই সময়ে আমরা কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম, তা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। অনেকে দেশে ছিলেন, আবার অনেকে বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের তরুণ-তরুণীরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, প্রাণ হারাচ্ছিলেন এবং আহত হচ্ছিলেন। সেই পরিস্থিতি দেখে নিশ্চুপ থাকা সম্ভব ছিল না।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি আমি আগে কখনো দেখিনি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তথ্যপ্রবাহ এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম অন্ধকার ও নৃশংস সময়। স্বাধীনতার পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪