স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বক্তব্য। বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখার জন্য ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটিপতি বানানোর প্রলোভনও দেখিয়েছিলেন তিনি। এমনটিই দাবি করেছেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
ওবায়দুর রহমানের দাবি, সংসদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম। বিষয়টি গোপন রাখতে তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দেওয়া এবং সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
তার ভাষ্য, টাকার লোভে মেয়েটির পরিবারও এ সম্পর্কের বিরোধিতা করেনি। ওবায়দুর জানান, তিনি ওই তরুণীর মামা এবং একই সঙ্গে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। তার দাবি, মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে গাজী নজরুলের আত্মীয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে পরে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন গাজী নজরুল ইসলাম।
এর আগে গাজী নজরুল অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ঢাকায় ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং ভিডিওটি ফাঁসের পেছনেও ওবায়দুর রহমানের হাত রয়েছে। অন্যদিকে ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর। তার অভিযোগ, ভাগনির সঙ্গে এমপির সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
ওবায়দুরের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই গাজী নজরুল নিয়মিত ওই তরুণীর পল্লবীর বাসায় যেতেন। সংসদ সদস্য হওয়ার পর এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেলেও ঢাকায় এলে তিনি প্রায়ই ওই বাসায় অবস্থান করতেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি পরিবারের সামনে তুলে ধরলেও মেয়েটির বাবা মাসুম বিল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’
ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন গাজী নজরুল নিজেই। এলজিইডি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকটি কাজের দরপত্রও তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে জমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি পদে অনুকূল একজন প্রকৌশলীকে বদলির জন্যও এমপি তদবির করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওবায়দুর বলেন, এমপির নির্দেশে একটি বাসা ভাড়া করার কথা থাকলেও তিনি এক দিনের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে একটি রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপন করেন। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তিনি ডিভাইসটি নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর কিছু ব্যক্তি এসে এমপির কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে বলেও তিনি দাবি করেন।
ওবায়দুরের আরও অভিযোগ, মুখ বন্ধ রাখতে তাকে একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ এবং এমপির এপিএস-২ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীর পাশাপাশি ওই তরুণীও ভিডিও বার্তায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তরুণীর দাবি, ২০২৬ সালের ১৭ জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয় এবং সেই অনুষ্ঠানে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে তার বাবার অফিসে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমান, গাজী নজরুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট তরুণীর পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব