নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনার মামলায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত মোহন তালুকদার।
অভিযুক্ত মোহন তালুকদার (২৫) মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার, আবুল কালাম আজাদের ছেলে। এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। ধর্ষনের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।
আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
শুক্রবার দিবাগত (২০ জুন) রাত বারোটা পঞ্চাশ মিনিটে সশরীরে মোহনগঞ্জ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত মোহন তালুকদার।
পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার আগে মোহন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি। যে বিষয়টা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে আমার সম্পর্কে, সে অভিযোগটা মিথ্যা বানোয়াট। এজন্য আমি মোহনগঞ্জ থানার প্রতি বিশ্বাস রেখে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সারেন্ডার করেছি। আইনের কাছে আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটাই আমি আশা করি।
এর আগে, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হলেও দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে। পরবর্তিতে চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়।
এর পরদিন (১৩ মার্চ) স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোের্ট আসে।
সেদিন আইনি সহায়তা নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। পরে পরিবারের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন মেহন। কিন্তু পুলিশ এতেদিন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
থানায় এসে ধর্ষণ মামলার আসামি আত্মসমর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, বারোটা পঞ্চাশ মিনিটে মোহন তালুকদার থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম