স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি ফিফা বিশ্বকাপে খেলার গতি বাড়ানো এবং মাঠে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নিয়মগুলোর একটি হলো, মুখে হাত দিয়ে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক মন্তব্য করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে।
এই নতুন নিয়মের প্রথম প্রয়োগ দেখা গেছে তুরস্ক ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৪৫+৩) প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে মুখে হাত দিয়ে কথা বলার অভিযোগে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এই নিয়মে বহিষ্কৃত হওয়া প্রথম খেলোয়াড়ের নাম লিখিয়েছেন তিনি।
আলমিরনের বিদায়ের পর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হচ্ছে প্যারাগুয়েকে। যদিও প্রথমার্ধ শেষে গালার্জার করা গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে সংখ্যাগত সুবিধা নিয়ে তুরস্কের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপে যেসব নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে
ফিফার নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে মাঠ ত্যাগ করলে কিংবা রেফারিকে অবমাননা করলে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। কোনো কোচ বা দলের কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের এমন আচরণে উৎসাহিত করলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থ্রো-ইন ও গোলকিক নেওয়ার ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে থ্রো-ইন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে থ্রো-ইনের সুযোগ পাবে প্রতিপক্ষ দল। একইভাবে গোলকিক নিতে দেরি হলে প্রতিপক্ষ কর্নার কিক পাবে।
প্রতি অর্ধের ২২তম মিনিটে তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতিও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে নিকটবর্তী সাইডলাইন বা গোললাইন দিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে। এতে বিলম্ব হলে বদলি খেলোয়াড়কে পরবর্তী সময়ে বল মাঠের বাইরে যাওয়া বা এক মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ ছাড়া স্ট্রেচার বা মেডিকেল টিম মাঠে প্রবেশ করলে আহত খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তবে গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।
২০১৮ সালে চালু হওয়া ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ব্যবহারও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো, ভুল কর্নার বা থ্রো-ইনের সিদ্ধান্তের মতো বিষয়েও ভিএআরের সহায়তা নেওয়া যাবে।
ফিফার ধারণা, এসব পরিবর্তনের ফলে খেলার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বাড়বে। তবে অতিরিক্ত সময়, ভিএআর পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন বিরতির কারণে ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচ প্রায় ১০০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।