| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইরানে মার্কিন হামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৬, ২০২৬ ইং | ০৮:৩৫:০২:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৬৪ বার পঠিত
যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইরানে মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৬ জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এ ঘটনাকে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান চারটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার পর ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

এদিকে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনায় রয়েছে। একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ কয়েকটি জটিল ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।

তেহরান যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান একটি শক্ত ও গর্বিত জাতি হওয়ায় সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয়।

এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সম্প্রতি দখল করা বউফোর্ট দুর্গের কাছেও একটি হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার না করলে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করাকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ, ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে। এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহর মিত্র নবিহ বেরি বলেছেন, ইসরায়েল দখল করা এলাকা থেকে সরে গেলে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবস্থান প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি সম্মত হবেন।

এ সপ্তাহে লেবাননের পাশাপাশি গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতেও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা চললেও অঞ্চলজুড়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪