জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মো. আবু বকর সিদ্দিককে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) রাতে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে তাঁর এপিএস আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আবু বকর সিদ্দিক সংসদ সদস্য আমির হামজার স্ত্রীর বড় ভাই (শ্যালক)।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— হাসাদাহ বাজার এলাকার বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন (৪৫), তাঁর শ্যালক রিমন হোসেন (৩২) এবং মাশরুল মুহিব (২৫)। এছাড়া আরও ১-২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামে সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্বশুরবাড়ি। চাচাতো শ্যালক মুশফিকুর রহমানের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে দুটি গাড়িতে করে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার নস্তি গ্রামে যান তিনি। বিয়ে শেষে সেনেরহুদা গ্রামে ফেরার পথে হাসাদাহ বাজারে একটি ইজিবাইককে হর্ন দিয়ে সরানোকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত গাড়ির চালকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের শ্যালক ও এপিএস আবু বকর সিদ্দিককে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জীবননগর থানার ওসিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত গাড়িযোগে মহেশপুর থেকে সেনেরহুদা যাওয়ার সময় হাসাদাহ বাজারের প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ইজিবাইক রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। বারবার হর্ন দেওয়ার পরও সেটি না সরানোয় গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন ইজিবাইকচালককে সরে যেতে বলেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা আবু বকর সিদ্দিকের পথরোধ করে ধস্তাধস্তি ও মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গাড়িতে থাকা সংসদ সদস্যের স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আসামিরা তাঁকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন।
অভিযুক্ত মোস্তাক হোসেন দাবি করেন, তাঁর ছোট বোনকে গাড়িতে ওঠানোর সময় ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, “গাড়িচালক ইজিবাইকচালককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে ধাক্কা দেন। পরে আমার শ্যালক রিমন ও ভাগ্নে মাশরুল ঘটনাস্থলে আসে। ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তবে অভিযোগে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবে কিছু ঘটেনি।”
রিমন হোসেন বলেন, “আমি চায়ের দোকানে ছিলাম। দেখি আমার দুলাভাইকে ধাক্কাধাক্কি করা হচ্ছে। তখন আমিও সেখানে যাই। ধস্তাধস্তির সময় একটি ঘুষি লেগে তাঁর চশমার কারণে নাকের কাছে কেটে যায়।”
মামলার বাদী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে হাসাদাহ বাজারে একটি ইজিবাইকের কারণে গাড়ি আটকে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কয়েকজন এসে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি সংসদ সদস্যের শ্যালক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।”
সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে শুনেছি, গাড়িচালকের সঙ্গে ইজিবাইকচালকের কথা-কাটাকাটির পর কয়েকজন এসে আমার শ্যালক ও চালকের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যে-ই অন্যায় করুক, তার বিচার হওয়া উচিত। রাজনৈতিক পরিচয় বড় বিষয় নয়, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।”
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “এমপির শ্যালক বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
রিপোর্টার্স২৪/বাবি