রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, যা অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরে ক্ষতি করে যেতে পারে। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা এই ঝুঁকির মধ্যে আছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১.২৮ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এই সমস্যায় ভুগছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই জানেন না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপকে “নীরব ঘাতক” বলা হয়, কারণ এটি ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং অনেক সময় হঠাৎ স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।
প্রাথমিক কিছু সতর্ক লক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ইঙ্গিত দিতে পারে, যেমন
সকালের মাথাব্যথা:
বিশেষ করে মাথার পেছনে টনটনে বা চাপধরনের ব্যথা হলে তা উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ হতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি:
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা হৃদযন্ত্র অতিরিক্ত কাজ করার ইঙ্গিত হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট:
হালকা কাজ করলেও দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া উদ্বেগজনক লক্ষণ।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া:
কারণ ছাড়াই বারবার নাক থেকে রক্ত পড়লে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
ঝাপসা দৃষ্টি:
রক্তচাপ বেড়ে গেলে চোখের রক্তনালী প্রভাবিত হয়ে সাময়িক দৃষ্টিসমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুমের সমস্যা:
রাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অনিদ্রা উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্যও। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাবার, লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তারা আরও বলেন, এই রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এটি অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ভেতরে ক্ষতি করতে থাকে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম