রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারী, স্বল্প পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের অগ্রাধিকার দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর হতে পারে।
নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রথম ধাপেই এই স্বল্প আয়ের পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ অংকের পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হচ্ছে।
এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা প্রথম ধাপেই কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন প্রস্তাবে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা চালুর সুপারিশ করেছে কমিশন। অর্থ বিভাগ এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
তবে কেবল নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের নয়, ভবিষ্যতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যদিও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এসব সুবিধা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম