রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে ফেরিঘাট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি যাচাই করে দায় নিরূপণ করা হবে।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব সাথী দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে আনুমানিক ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। চালক ও হেলপারসহ মোট ৪২ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই ঘটনায় টানা চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। নিখোঁজদের সন্ধানে এবার ঘাটের পন্টুন সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নিচে কোনো মরদেহ আটকে আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, পন্টুন সরানোর পর নির্দিষ্ট এলাকায় ডুবুরি দল বিশেষ অভিযান চালাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র ঢেউ ও বাতাসের কারণে ডুবুরি দল ঝুঁকির মুখে কাজ করছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উদ্ধারকারী বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলেই পূর্ণোদ্যমে তল্লাশি চালানো হবে। বর্তমানে পন্টুন সরানোর প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের পরিবার ও স্থানীয়রা ফেরিঘাট এলাকায় ভিড় করে উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি