রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সারা দেশে যাতায়াতের চাপ বাড়ার মধ্যেই পাঁচ জেলায় পৃথক সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা, ফেনী, নাটোর, কক্সবাজার ও হবিগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লায়। নগরীর পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ ও স্থানীয়রা।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। সংঘর্ষের পর পিকআপটি পাশের পুকুরে পড়ে গেলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। একই জেলায় পৃথক ঘটনায় সড়কের পাশে খাদে ডুবে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। সড়কে চলমান সংস্কারকাজের কারণে ধীরগতির যানবাহনের পেছনে জট তৈরি হলে দ্রুতগতির একটি বাস এসে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় হাইওয়ে পুলিশ।
নাটোরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুইজন আহত হন। অন্য ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি প্রাইভেটকার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেলে প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জিল্লুর মৃত্যু হয়।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. আনিস (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, অব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামোকে এসব দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি