| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টাকা বাঁচলে ছেলে-মেয়ের জন্য কিছু নিতে পারবেন, তাই ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন বাবা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৯, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৫:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৪৪৬৫১৩ বার পঠিত
টাকা বাঁচলে ছেলে-মেয়ের জন্য কিছু নিতে পারবেন, তাই ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন বাবা

রিপোর্টার্স ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদের আনন্দ। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা না গেলে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদ উদযাপিত হবে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছেড়ে বাড়ির পথে ছুটছেন স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী টার্মিনাল ও কল্যাণপুর বাস ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়—যাদের পকেট সামান্য, তাদের কাঁধে আছে বড় দায়িত্ব; পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর দায়। তাই কেউ বাসের টিকিট না পেয়ে, কেউ বেশি ভাড়া এড়িয়ে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন।

কম খরচে বাড়ি ফেরার আশায় গাবতলী পশুর হাটের পাশের সড়কে সারি ধরে ট্রাকে উঠছেন শ্রমজীবী মানুষ। ট্রাকের ওপরে ত্রিপল টাঙিয়ে সামান্য ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওঠানামার জন্য রাখা হয়েছে ছোট্ট একটি মই। একেকটি ট্রাকে ব্যাগ-বস্তাসহ উঠে পড়েছেন দশ-বারো জন যাত্রী। জায়গা হলেই আরও কয়েকজনকে তোলা হচ্ছে। একটি ট্রাক ভর্তি হলেই আরেকটি এসে দাঁড়াচ্ছে।

এই ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরিফুল ইসলাম। বাড়ি নওগাঁ। মুখে ক্লান্তি থাকলেও কণ্ঠে ছিল সন্তানকে কাছে পাওয়ার অগ্রিম উচ্ছ্বাস। তিনি বলেন, ট্রাকে গেলে ভাড়া লাগে ৩০০ টাকা, আর কোচে (বাস) গেলে এক হাজার টাকা। ৭০০ টাকা বাঁচলে ছেলে-মেয়ের জন্য বাড়তি কিছু কিনতে পারবো। একটু কষ্ট করলে ওদের ঈদটা ভালো কাটবে—এই চিন্তা থেকেই ট্রাকে যাচ্ছি।

গাবতলী সেতুর আগে দলবেঁধে ১৫-২০ জন যুবক অপেক্ষা করছেন চলন্ত গাড়িতে ওঠার সুযোগের জন্য। সবার গন্তব্য উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা। হাতে ব্যাগ, চোখে তাড়াহুড়া—যেন যে করেই হোক আজই বাড়ি পৌঁছাতে হবে।

অন্যদিকে রংপুর-সৈয়দপুর রুটে চলাচলকারী দিগন্ত পরিবহনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তবুও বাড়ি ফেরার তাড়নায় কেউ কেউ সুপারভাইজারের আসন কিংবা ইঞ্জিন কভারে বাড়তি টাকা দিয়ে যাত্রার ব্যবস্থা করছেন। টিকিট না পাওয়া মানুষদের কাছে এটুকুই এখন ভরসা।

উত্তরাঞ্চলে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক যাত্রী সড়কপথে ফিরছেন। তবে সেই চাপও পুরোপুরি সামলাতে পারছে না পরিবহন ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে, কষ্ট আর হিসাবের ভেতর দিয়েই এগোচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ঈদযাত্রা। তবুও তাদের মুখে একটাই কথা—কিছু টাকা বাঁচাতে পারলে সন্তানদের জন্য সামান্য বাড়তি আনন্দ কিনে নেওয়া যাবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪