| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইতিহাসের গর্ভ থেকে উচ্চারিত এক নাম: বঙ্গবন্ধু ও এক জাতির অন্তর্লিখিত আত্মকাব্য

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৭, ২০২৬ ইং | ২৩:০৮:৪৯:অপরাহ্ন  |  ৪৪৭৩০১ বার পঠিত
ইতিহাসের গর্ভ থেকে উচ্চারিত এক নাম: বঙ্গবন্ধু ও এক জাতির অন্তর্লিখিত আত্মকাব্য

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ :

জাতির প্রতি এক পত্র

প্রিয় স্বদেশ,

১৭ মার্চ—তারিখটি যেন কেবল কালের পৃষ্ঠায় অঙ্কিত একটি সংখ্যা নয়; বরং এটি এক সুদীর্ঘ গর্ভধারণের পর ইতিহাসের প্রসববেদনা থেকে জন্ম নেওয়া এক নামের উন্মোচন। সেই নাম—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—যেন কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং নদীমাতৃকার বুকফাটা জোয়ার, মাটির গভীরে ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরির ধৈর্য, আর অবদমিত উচ্চারণের এক সম্মিলিত বিস্ফোরণ।

১৯২০ সালের এই দিনে, টুঙ্গিপাড়া—একটি নরম, কাদামাখা ভূগোল—তাকে পৃথিবীর কাছে সমর্পণ করেছিল। যেন এক নিরীহ গ্রাম তার মাটির ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছিল এমন এক বীজ, যার বৃক্ষে একদিন একটি রাষ্ট্র আশ্রয় নেবে। তিনি জন্মেছিলেন কোনো বজ্রধ্বনি নিয়ে নয়, বরং শিশিরের মতো নীরবে—কিন্তু তাঁর ভেতরে সময় ধীরে ধীরে জমা করছিল ঝড়ের উচ্চারণ।

স্বদেশ,

তুমি কি কখনো অনুভব করেছো—একজন মানুষের কণ্ঠস্বর কীভাবে একটি ভূখণ্ডের শিরায় শিরায় রক্তসঞ্চালনের কাজ করতে পারে? ৭ই মার্চের ভাষণ—সেই বিকেলটি ছিল যেন এক অদৃশ্য বজ্রপাত; আকাশ ফাটেনি, কিন্তু মানুষের ভেতরের ভীতির প্রাচীর ভেঙে গিয়েছিল। তাঁর বাক্যগুলো ছিল না কেবল শব্দ, ছিলো আগুনের দানা— যা প্রতিটি হৃদয়ে গিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল স্বাধীনতার অদম্য ক্ষুধা।

তিনি রাজনীতির কারিগর ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক মাটির ভাস্কর—যিনি কাঁদামাটি দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এক জাতির আত্মপরিচয়। তাঁর প্রতিটি উচ্চারণ যেন শস্যবীজ, যা রোপিত হয়েছিল রক্তসিক্ত জমিতে, এবং সেখান থেকে জন্ম নিয়েছিল এক পতাকা।

কিন্তু শোনো, স্বদেশ— সমস্ত উপমার ভেতর দিয়েও একটি নির্মম সত্য উঁকি দেয়: তিনি ছিলেন মানুষ। তিনি আকাশ ছিলেন না, বরং আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্লান্ত বৃক্ষ— ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে যার ডালপালা ভেঙেছে,

তবুও যার শিকড় কখনো মাটি ছেড়ে যায়নি। তারপর— এক ভোর, যেন সূর্য ওঠার আগেই আলোকে হত্যা করা হলো—১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনাটি যেন কোনো রাজনৈতিক অধ্যায় নয়, বরং একটি জাতির নিজের ছায়াকে ছুরি মেরে ফেলার মতো এক আত্মবিরোধী দৃশ্য।

স্বদেশ, তুমি কি এখনো সেই রক্তের দাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছো? নাকি সময়ের ধুলা তাকে ঢেকে দিয়েছে, আর আমরা ভুলে গেছি— এই মাটি একদিন কেঁপে উঠেছিল নিজেরই পিতার পতনে?

আজ, এই জন্মদিনে, আমি কোনো ফুলের তোড়া নিয়ে আসিনি— আমি এনেছি কিছু প্রশ্ন, যেগুলো উত্তরহীন থাকলে স্বাধীনতাও এক প্রকার অসম্পূর্ণ বাক্য হয়ে থাকে।

তুমি কি এখনো তাঁর স্বপ্নকে ধারণ করো? নাকি আমরা কেবল তাঁর নামকে ব্যবহার করি, যেন ইতিহাস একটি সুবিধাজনক অলংকার? তিনি আমাদের একটি দেশ দিয়েছিলেন— যেন এক জ্বলন্ত প্রদীপ, যা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন— “এটি নিভতে দিও না।”

কিন্তু স্বদেশ, প্রদীপ রক্ষা করা কি কেবল দায়িত্ব, নাকি তা এক অন্তহীন সাধনা? তিনি আজ নেই— তবুও তিনি আছেন, যেন বাতাসের মতো—অদৃশ্য, কিন্তু অপরিহার্য; যেন নদীর মতো—অবিরাম, কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে; যেন একটি অসমাপ্ত কবিতা— যার প্রতিটি লাইন আমরা এখনো লিখে চলেছি।

ইতি— তোমারই অন্তর্গত, এক অনির্বচনীয় ঋণের ভাষ্যকার।

লেখক: কবি ও শিক্ষার্থী

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪