| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকা উধাও

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৮, ২০২৬ ইং | ১৩:২৮:২০:অপরাহ্ন  |  ৭৬৮ বার পঠিত
মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকা উধাও

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ঘিরে আর্থিক বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে সংরক্ষিত ২০ কোটি টাকার দুটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর)। এই অর্থ কোথায় গেল তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সন্দেহ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে দুটি এফডিআর খোলা ছিল। প্রথমটি ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল ১০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয়টি ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরও ১০ কোটি টাকা জমা হয়। উভয় অর্থই সরকারি অনুদান হিসেবে সংস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

শর্ত অনুযায়ী, এই ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত থেকে অর্জিত লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ সংস্থার উন্নয়ন কাজে ব্যয় করার কথা ছিল, আর বাকি ২০ শতাংশ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘদিন নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ জমা হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হিসাব বিবরণী হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা করিম নেলী জানান, সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিবরণী পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ৫ মে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি দেন। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি অস্পষ্ট ও অসন্তোষজনক ব্যাখ্যা পান বলে দাবি করেন।

ফিরোজা করিম নেলীর অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তারা প্রথমে নানা অজুহাত দেন এবং পরে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ নতুন চিঠি নিয়ে যেতে বলেন। পরে দেখা করতে গেলে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি চিঠির ভিত্তিতে জানুয়ারিতে ওই দুটি এফডিআরের সম্পূর্ণ অর্থ মূল হিসাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে সংস্থাকে না জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শামীমা নুর জানান, বিষয়টি সংস্থার কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে লিখিত ব্যাখ্যা কেন দেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া সংস্থা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ব্যাংকিং প্রক্রিয়া এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানানো হয়েছে এবং আগামী রোববার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার কথা রয়েছে।

ক্রীড়া মহলের একাংশ মনে করছে, এটি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নাকি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম তা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে থাকা ২০ কোটি টাকার এফডিআরের প্রকৃত অবস্থান কি প্রকাশ পাবে, নাকি এই অর্থের রহস্যই থেকে যাবে অন্ধকারে?


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪