রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কোলন বা বৃহদন্ত্রের ক্যানসারে তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যাচ্ছে। এটি এখন আর শুধুমাত্র বয়সকালের রোগ নয়। সমীক্ষা দেখাচ্ছে, ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়সের মধ্যে কোলন ক্যানসারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
গবেষকরা বলছেন, এর পেছনে কেবল অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং বৃহদন্ত্রের গঠনগত কিছু ত্রুটি এবং জিনের পরিবর্তনও দায়ী। ‘অ্যাডভান্সড সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কমবয়সিদের কোলনের কোষ বেশি শক্ত ও পুরু হয়ে যায়। এতে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজনের পথ তৈরি হয়, যা ক্যানসারের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
কিছু ক্ষেত্রে কোষে ক্ষত বা ফাইব্রোসিস দেখা যায়, যা ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়। এ ধরনের কোষের শক্ত ও পুরু দেওয়াল মূলত অতিরিক্ত কোলাজেনের কারণে। গবেষকরা এখন যাচাই করছেন, কেন কমবয়সিদের কোলনে কোলাজেনের অতিরিক্ত সঞ্চয় হচ্ছে।
খাদ্যাভ্যাসই একমাত্র কারণ নয়, বলছেন বিজ্ঞানীরা। জিনগত কারসাজিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। নির্দিষ্ট কিছু জিনের মিউটেশন বা রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কোলন ক্যানসার হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিনগুলো হলো এপিসি, এমএলএইচ১, এমএসএইচ২, পিএমএস২ এবং ইপিসিএএম। এই জিনগুলোর কোনো একটি যদি পরিবর্তিত হয়, ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
গবেষকরা চেষ্টা করছেন, কোন জিন কোন কোষে প্রভাব ফেলছে তা শনাক্ত করতে। যদি তা নির্ধারণ করা যায়, ক্যানসার হওয়া থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিকভাবে কোলন ক্যানসার ধরা পড়লে নিরাময় সম্ভব, তবে ছড়িয়ে পড়লে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আক্রান্ত কোষগুলোর গঠনগত পরিবর্তন ‘স্পেশ্যাল মার্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই পরিবর্তনের কারণ হলো জিনগত প্রভাব। যদি জিনগত পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে কমানো সম্ভব।
রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম