রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভাসানচরের আশ্রয়শিবির থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল ৩৭ রোহিঙ্গা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বটগাছতলা ইলিশের ঘাটে রোহিঙ্গাদের দলটিকে দেখতে পান এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনী সদস্যরা ৩৭ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেন। আটককৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ২৩ জন শিশু-কিশোর রয়েছেন।
আটক রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, তারা এক দালাল চক্রের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। গত মঙ্গলবার তারা আশ্রয়শিবির থেকে প্যারাবনে লুকিয়ে বের হন এবং এক দিন সেখানে থাকেন। বুধবার রাতে সীতাকুণ্ডে পৌঁছানোর জন্য একটি ছোট নৌকায় তোলা হয়, কিন্তু নৌকাটি সেই রাতে তীরে ধরা দেয় এবং পরে তাদের অন্য একটি নৌকায় তুলে নেয়া হয়।
তবে সেখানেও সমস্যায় পড়েন তারা। নৌযানের জ্বালানি শেষ হয়ে যায় এবং রোহিঙ্গারা তিন দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকে। অবশেষে সন্দ্বীপের কাছে তাদের নৌকাটি নামানো হয়। আটককৃতদের অভিযোগ, দালাল চক্র অস্ত্রের মুখে তাদের নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগের গন্তব্য ছিল কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, যেখানে তাদের স্বজনরা বসবাস করেন। একজন রোহিঙ্গা নারী জানায়, তার শ্বশুরবাড়ি রংপুরে, এবং সেখানেই তিনি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। আটককৃত রোহিঙ্গা জোহরা বেগম (৪০) জানিয়েছেন, নৌযানটিতে থাকা দালাল চক্রের একজন তার কাছ থেকে আট আনা ওজনের কানের দুল কেড়ে নিয়েছে। নৌযানে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার ব্যক্তির কাছে ছুরি ছিল।
সন্দ্বীপ থানার ওসি জাহেদ নূর জানান, রাতে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম