নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালীন দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের সময় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শুরু করেন। মিছিলে তারা ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিছিল চলাকালীন সময়ে দুই পক্ষের পথ একত্রিত হলে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতি শুরু হয়।
আহতরা হলেন—হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক, সাখাওয়াত হোসেন হিরো, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকা যাচ্ছিল ফারহান-০৪ লঞ্চ। ওই ছাত্রীকে তার বাবা কেবিনে তুলে দেন। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠু কেবিনে প্রবেশ করে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এবং চেষ্টায় ব্যর্থ হলে তার ওপর ভয়ভীতি দেখায়। রাতের সময়ে তারা পুনরায় কেবিনে প্রবেশ করে তাকে হুমকি ও পুনরায় ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগীর ভাই সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। তারা পুলিশ দ্বারা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ মিছিলে হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতি কড়া নজর রাখা এবং আইনগত দ্রুত প্রতিকার প্রদানের মাধ্যমেই ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসমূলক ঘটনা রোধ করা সম্ভব।