অন্তর্দাহন
প্রভাস দত্ত।
=========
তোমার ভাবনায় আজ নেই আমি
নেই আমি আর তোমার নীড়ে
স্বপ্নবিহারী অনুগামী।
তোমার মনের বীণা
বাজে না আর আমায় ভেবে
ভালোবাসার বেলাভূমে মুগ্ধ সপ্তসুরে;
ছোয়ার তৃষ্ণা তোমায়
মধ্য বেলার নীরস সাহারায়
হ্রদয় পোড়ায় ধুধু বালুচরে।
ভেসে গেছ তুমি খণ্ড মেঘের ডানায়
নয়ন কোনে জলের কাজল মেখে
অন্য জীবন মায়ায়।
তোমার চঞ্চল চরণদলে
বেধেছিনু নীলামনিগাথা নুপুরের আভরণ;
কনকলতা করপল্লবে
পরায়েছিনু রক্তকরবীর নির্মাল্য কঙ্কন;
আপন মনের মাধবীকুঞ্জ তলে।
বাধন টুটিয়া তোমার অন্তর্ধানে
করুন রসের অন্তর্দাহে
ছিন্ন আভরণ লুটায়ে পথের পরে
বিলাপ করে বিষণ্ণ ক্রন্দনে।
ফিরিবে না তুমি আর
পুরোনো দিনের জীর্ণ খাচার দ্বারে
চলে গেছ তুমি নীল অনিরুদ্ধ পথে
ময়ুর পেখমে নীলাঞ্জনী রথে
মেঘে ঢাকা মোর আকাশ থেকে দূরে।
উদাস ছোয়ায় ঈথরে যদি
ভেসে আসে তব আনমনা আহবান
পথ ভোলা পথে ভুল করে যদি
চরণরেণু আলপনা হয়ে ঝরে
মাকসার জালে আকীর্ণ মোর ঘরে
বঞ্চনায় ঢাকি হ্রদয়ের অবধান।
দিনের সূর্য প্রখর তাপে
রক্তনেত্রে আমায় শাসন করে
রাতের আধার বোবানীরে ভরায় দুনয়ন
অস্থিরতায় কাটে নি:সঙ্গ ক্ষন
অগ্নি দহসি বালুকাশয্যা পরে।
প্রতিবাদহীন নির্বিবাদী চেতনা
নির্লিপ্ততায় হেরে দূরের আকাশ
জীবন খোঁজার নেই অবকাশ
থির নয়নে শুধুই খোঁজার ছলনা।
কতো কথা হত একদিন
কথা হত ঝিঁ ঝিঁ ডাকা নিঝুম রাতে।
অর্থহীন কথামালা পুরবী সঙ্গীতে
হ্রদয়তন্ত্রে মিশে হয়ে যেত লীন।
বলার কথা সবই রয়ে যেত বাকী
নির্ঘুম যামি অন্তে আগত প্রভাতে।
কথার পারাবাত নির্বাক আত্মহননে
বেদনার সমাধীতে ঘুমিয়ে গেছে
নির্বেদে পুড়ে মলিন নিথর বদনে।
স্বপ্নের কঙ্কাল চাপা পড়ে আছে
স্রোতহারা নদীর প্রশস্ত শুষ্ক পুলিনে।
স্মৃতির শ্মশান খুড়ে
শুধানোর কিছু বাকী নেই
আত্ম অধিরাজ শুধু শুধে পোড়ামনে
কতো ভাল আছ তুমি অন্য ভূবনে?
.
রিপোর্টার্স২৪/এস