| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সচিবালয়ে আবেগঘন বার্তায় বাবাকে স্মরণ প্রতিমন্ত্রী পুতুলের

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৬ ইং | ০৫:০১:২৮:পূর্বাহ্ন  |  ৬৫৮৩০১ বার পঠিত
সচিবালয়ে আবেগঘন বার্তায় বাবাকে স্মরণ প্রতিমন্ত্রী পুতুলের

স্টাফ রিপোর্টার: সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসেই আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহনকারী এই নবীন প্রতিমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ফেসবুক বার্তায় তিনি লেখেন, আজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে আব্বু দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ আমি সেই একই অফিসে বসে দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি। বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই কক্ষে বসে দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তকে তিনি জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও লেখেন, দিন-রাতে এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন আমার বাবা আমার সঙ্গে থাকেন না। আজ অফিসে বসে পাশের বোর্ডের ৬ নম্বর তালিকায় আব্বুর নামের দিকে যতবার চোখ পড়েছে, মনে হয়েছে আব্বু আমাকে বলছেন—আমি তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করছিলাম। তার এই কথাগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের এক অনন্য মেলবন্ধন।

ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। নতুন সরকারে দায়িত্ব পাওয়া অন্তত সাতজন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে তিনি অন্যতম, যারা বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন।

ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। নাটোর-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পটল। দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট তিনি ইন্তেকাল করেন।

বাবার রাজনৈতিক ঘাঁটি নাটোর-১ আসন থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ফারজানা শারমিন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি পেয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব—যে মন্ত্রণালয়ে একসময় তার বাবা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের এই মুহূর্তটি তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ফারজানা শারমিনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ খাতে কার্যকর ও জনবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা। সচিবালয়ে প্রথম দিনের আবেগঘন বার্তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিকে শক্তিতে রূপ দিতে চান।

নতুন দায়িত্বে তিনি কতটা সফল হবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই কক্ষে বসে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার অঙ্গীকার ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এক আবেগঘন প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪