রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ‘আমি মুখ খুললে বহু ভদ্রলোকের শুধু প্যান্ট খুলে যাবে না, বরং আন্ডারওয়্যারও খসে পড়ার চান্স আছে। তাই আমার সঙ্গে হিসাব করে পাঙ্গা লড়তে আসেন। বরং আমার কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করুন, দেশের দু-পয়সা উপকার হবে।’
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত শনিবার তার দেশ ছাড়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযোগ ওঠে, তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির কোনো সুরাহা না করেই তিনি দেশ ছেড়েছেন।
গত বছরের মাঝামাঝি রাষ্ট্রীয় কেনাকাটার বিষয়ে বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা একটি প্রকল্প চালু রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদককে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। যদিও সে সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, চিঠিতে তারা কেবল দুদক চেয়ারম্যানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।
বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘টেলিকমের দুর্নীতির প্রধানতম উৎস লাইসেন্স দেওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো লাইসেন্স দিইনি। ফলে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই আমি রাখিনি।’
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্সকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পর থেকেই কতিপয় মিডিয়া ও স্বার্থান্বেষী কমিউনিকেশন মাফিয়াদের রোষানলে পড়েছেন তিনি।
যদিও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেটি তিনি সে সময় স্বীকারও করেছিলেন। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর তার পদত্যাগের দাবিতে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করেন মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ ছিল, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার—এনইআইআর-এর মাধ্যমে প্রতিটি মোবাইলফোনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে লাখ লাখ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নতুন এ নিয়মের কারণে বিশেষ একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং বাড়তি করের চাপে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম বেড়ে যাবে।
এমন নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই নির্বাচন শেষ হওয়া মাত্র ফয়েজ আহমদের দেশ ছাড়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের মুখোমুখি না হয়ে হুট করে বিদেশে পাড়ি দিলেন তিনি?
আওয়ামী লীগের সব টেলিকম আইন, পলিসি ও গাইডলাইন পরিবর্তন করেছেন বলেও ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সব টেলিকম আইন, পলিসি ও গাইডলাইন আমি পরিবর্তন করে দিয়েছি। নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং সূচনা করে গেছি।’
ব্যক্তিকে তার কাজের মধ্য দিয়ে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান ফয়েজ আহমদ। না হলে ভবিষ্যতে কেউ দেশে কাজ করতে আসবে না। ১১ মাসে কী করেছি, কেন করেছি, তা নিয়ে ‘নোট টু সাকসেসর’ লিখে দিয়েছি। এটাও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আশা করি, পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সৌভাগ্যবান হবেন; সব ভিত্তিমূলক কাজ আমি করে দিয়ে গেছি। কিছু পরিবর্তন করতে চাইলেও বেজলাইনের ওপর পরিবর্তন করা সহজ হবে। তবে হঠকারী কিছু করলে তা রেকর্ডভুক্ত হবে, যেহেতু আমাদের সব প্রকাশনা আছে। তাই ইতিহাসের কাছে তাকেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে। টুকটাক পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রশাসন অবশ্যই করবে, কিন্তু পুরো ইকোসিস্টেম পরিবর্তন করা কঠিন হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন