ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাবে সন্তুষ্ট নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ইরানের পাঠানো প্রতিক্রিয়াকে তিনি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি— ইরানের এই জবাব সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
এর আগে গত সপ্তাহে যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ৩০ দিনের আলোচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
নতুন এ প্রস্তাবের জবাবে রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে লিখিত প্রতিক্রিয়া পাঠায় ইরান। পরে পাকিস্তান সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও পৌঁছে দেয়। ইরানের জবাব পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প।
জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসনের খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান তাদের জবাবে এ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলায় সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও দাবি করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তির মূল কারণ সম্ভবত ইউরেনিয়াম ইস্যু। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ। এ মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন চাইছিল, ইরান যেন তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত হয় ধ্বংস করে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে রোববারের জবাবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে, ইউরেনিয়ামের একটি অংশের বিশুদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে ইরানের ভেতরেই রাখা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian বলেছেন, “ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং দৃঢ়ভাবে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।”
সূত্র : রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম